১/১৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৭ - রাসূলকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচয়
কোন ব্যক্তির তার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং সকল লোকের চেয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বেশি ভালোবাসা আবশ্যক হওয়ার বর্ণনা।
রাসূলকে ভালোবাসা: প্রকৃত ঈমানের এক গভীর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৭
حديث أَنَس قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ والِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعينَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয় হই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২: ঈমান, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৫; মুসলিম, পর্ব ১; ঈমান, অধ্যায় ১৬, হাঃ ৪৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো রাসূলকে ভালোবাসা। আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তিনি তার কাছে পিতা, সন্তান এবং সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হন। কথাটি খুব ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। মানুষ স্বভাবতই বাবা-মা, সন্তান ও কাছের মানুষকে ভালোবাসে। এই হাদিস সেই ভালোবাসাকে অস্বীকার করছে না। বরং বোঝাচ্ছে, একজন মুমিনের হৃদয়ে নবীজির প্রতি ভালোবাসা এমন জায়গায় থাকবে, যা সব মানবিক ভালোবাসার ওপরে। এখানে ঈমানের পূর্ণতা ও অন্তরের অগ্রাধিকার বোঝানো হয়েছে। তাই “প্রকৃত মুমিন” হওয়ার পথে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি ঈমানের সাথে জড়িত একটি বড় শিক্ষা। এই হাদিস আমাদের নিজের মনকে যাচাই করতে শেখায়—আমার কাছে আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর মর্যাদা কতটা প্রিয় ও সম্মানের?
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- পিতা, সন্তান ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও নবীজির ভালোবাসা তার ওপরে রাখা মুমিনের গুণ।
- প্রকৃত ঈমান শুধু মুখের দাবি নয়; অন্তরের ভালোবাসার সাথেও এর সম্পর্ক আছে।
- এই হাদিস নিজের হৃদয়ের অগ্রাধিকার যাচাই করতে শেখায়।
