৫/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩০৮ - মৃত্যুর সময় কবর বিষয়ে সতর্কতা
কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ নিষিদ্ধ।
মৃত্যুপীড়ার সময় নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কতা: কবরকে মসজিদ বানানো থেকে বিরত থাকা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩০৮
حديث عَائِشَةَ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالاَ: لَمَّا نَزَلَ برَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةَ لَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَإِذَا اغْتَمَّ بهَا كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ، وَهُوَ كَذلِكَ: لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيائِهِمْ مَسَاجِدَ يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا
’আয়িশাহ (রাঃ) ও ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়ে বলেছেনঃ নবী (ﷺ)-এর মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটা চাদরে নিজ মুখমণ্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহ্র অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ’আতী) কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮ সালাত, অধ্যায় ৫৫, হাঃ ৪৩৬; মুসলিম, পর্ব ৫: মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা, অধ্যায় ৩, হাঃ ৫৩১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর মৃত্যুপীড়ার সময়ের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি মুখে চাদর দিচ্ছিলেন, কষ্ট হলে তা সরিয়ে দিচ্ছিলেন। এমন অবস্থায়ও তিনি বললেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। বর্ণনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, তিনি তাদের কাজ থেকে সতর্ক করছিলেন। এতে বোঝা যায়, বিষয়টি খুব গুরুতর ছিল। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কবরকে ইবাদতের জায়গা বানানো থেকে দূরে থাকা। নবী صلى الله عليه وسلم শেষ সময়েও উম্মতকে এমন ভুল থেকে বাঁচাতে চেয়েছেন। তাই কবরের প্রতি সম্মান থাকবে, কিন্তু তা সলাতের স্থান বা মসজিদে পরিণত করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم কষ্টের সময়েও উম্মতকে গুরুত্বপূর্ণ ভুল থেকে সতর্ক করেছেন।
- কবরকে মসজিদ বানানো আগের জাতির নিন্দিত কাজ হিসেবে এসেছে।
- কবরের সম্মান ও ইবাদতের স্থান—দুই বিষয় আলাদা রাখা জরুরি।
- সতর্কবার্তাটি বারবার এসেছে, তাই এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার।
