৫/১০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩১৬ - মিম্বরে সলাত ও শেখানোর পদ্ধতি
সালাতরত অবস্থায় দুই-এক পা আগ পিছ হওয়া বৈধ।
নবী صلى الله عليه وسلم-এর সলাত শেখানোর পদ্ধতি: মিম্বরে দাঁড়িয়ে আমল দেখানো
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩১৬
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ أَبُو حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ: إِنَّ رِجَالاً أَتَوْا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، وَقَدِ امْتَرَوْا فِي الْمِنْبَرِ، مِمَّ عُودُهُ، فَسَأَلُوهُ عَنْ ذلِكَ، فَقَالَ: [ص: 110] وَاللهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مِمَّا هُوَ، وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ أَوَّلَ يَوْمٍ وُضِعَ، وأَوَّلَ يَوْمٍ جَلَسَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَأَرْسَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى فُلاَنَةَ (امْرأَةٍ قَدْ سَمَّاهَا سَهْلٌ) : مُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ أَنْ يَعْمَلَ لِي أَعْوَادًا أَجْلِسُ عَلَيْهِنَّ إِذَا كَلَّمْتُ النَّاسَ فَأَمَرَتْهُ فَعَمِلَهَا مِنْ طَرْفَاء الْغَابَةِ، ثُمَّ جَاءَ بِهَا، فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ بِهَا فَوُضِعَتْ ههُنَا ثُمَّ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَيْهَا، وَكَبَّرَ وَهُوَ عَلَيْهَا، ثُمَّ رَكَع وَهُوَ عَلَيْهَا، ثُمَّ نَزَلَ الْقَهْقَرَى، فَسَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ، ثُمَّ عَادَ، فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا صَنَعْتُ هذَا لِتَأْتَمُّوا وَلِتُعلَّمُوا صَلاَتِي
সাহল বিন সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হাযিম ইব্নু দীনার (রহঃ) বলেছেন যে, (একদিন) কিছু লোক সাহ্ল ইব্নু সা’দ সাঈদীর নিকট আগমন করে এবং মিম্বরটি কোন কাঠের তৈরি ছিল, এ নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জেগে ছিল। তারা এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি সম্যকরূপে অবগত আছি যে, তা কিসের ছিল। প্রথম যেদিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যে দিন এর উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বসেন তা আমি দেখেছি।আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আনসারদের অমুক মহিলার [বর্ণনাকারী বলেন, সাহ্ল (রাঃ) তার নামও উল্লেখ করেছিলেন] নিকট লোক পাঠিয়ে বলেছিলেন, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য কিছু কাঠ দিয়ে এমন জিনিস তৈরি করার নির্দেশ দাও, যার উপর বসে আমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারি। অতঃপর সে মহিলা তাকে আদেশ করেন এবং সে (মদীনা হতে নয় মাইল দূরবর্তী) গাবা’র ঝাউ কাঠ দ্বারা তা তৈরি করে নিয়ে আসে। মহিলাটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট তা পাঠিয়েছেন। নবী (ﷺ)-এর আদেশে এখানেই তা স্থাপন করা হয়।অতঃপর আমি দেখেছি, এর উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আদায় করেছেন। এর উপর উঠে তাকবির দিয়েছেন এবং এখানে (দাঁড়িয়ে) রুকূ’ করেছেন। অতঃপর পিছনের দিকে নেমে এসে মিম্বরের গোড়ায় সিজদা করেছেন এবং (এ সাজদাহ্) পুনরায় করেছেন, অতঃপর সালাত শেষ করে সমবেত লোকদের দিকে ফিরে বলেছেনঃ হে লোক সকল! আমি এটা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার অনুসরণ করতে এবং আমার সালাত শিখে নিতে পার।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১১: জুমুআহ, অধ্যায় ২৬, হাঃ ৯১৭; মুসলিম, পর্ব ৫; মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা, অধ্যায় ১০, হাঃ ৫৪৪৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মিম্বর তৈরি এবং তার উপর নবী صلى الله عليه وسلم-এর সলাত আদায়ের ঘটনা এসেছে। সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) মিম্বরের কাঠ সম্পর্কেও জানতেন এবং প্রথম দিন তা স্থাপনের ঘটনা দেখেছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم একজন আনসারী মহিলার কাছে বার্তা পাঠান, যেন তাঁর কাঠমিস্ত্রি গোলাম এমন কাঠের বসার জিনিস বানায়, যার উপর বসে তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। পরে মিম্বর স্থাপন করা হয়। নবী صلى الله عليه وسلم তার উপর উঠে তাকবীর দেন, রুকু করেন, তারপর পিছিয়ে নেমে মিম্বরের গোড়ায় সিজদা করেন। সালাত শেষে তিনি বলেন, তিনি এটি করেছেন যাতে মানুষ তাঁর অনুসরণ করে এবং তাঁর সলাত শিখে নেয়। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم শুধু কথা দিয়ে নয়, কাজ দেখিয়েও সলাত শেখাতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم বাস্তব আমল দেখিয়ে সাহাবীদের সলাত শিখিয়েছেন।
- ইমামের কাজ মানুষকে সঠিকভাবে ইবাদত শেখাতে সাহায্য করতে পারে।
- মিম্বর মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও শিক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
- সলাত শেখার ক্ষেত্রে নবী صلى الله عليه وسلم-এর পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
