৬/২৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৪২ - ফজর পর্যন্ত ঘুম ও সতর্কতা
ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে যে সকাল পর্যন্ত সমস্ত রাত্রি ঘুমাল।
ফজর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকা: শয়তানের ধোঁকা থেকে সতর্কতার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৪৪২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪৪২
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَهُ حَتَّى أَصْبَحَ، قَالَ: ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنَيْهِ أَوْ قَالَ: فِي أُذُنِهِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, সে এমন লোক যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৯: সৃষ্টির সূচনা, অধ্যায় ১১, হাঃ ৩২৭০; মুসলিম, পর্ব ৬ মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা কসর করার বর্ণনা, অধ্যায় ২৮, হাঃ ৭৭৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো রাতের ইবাদত। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এমন একজন লোকের কথা বলা হলো, যে সারা রাত ঘুমিয়ে ভোর করে। তখন তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে। হাদিসের ভাষা খুব কঠোর, তাই এটি অলসতা ও গাফলতের বিরুদ্ধে শক্ত সতর্কতা হিসেবে বোঝা যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রাতের সময় পুরোটা এমনভাবে ঘুমিয়ে কাটানো যেন সালাত, জাগরণ বা আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষ একেবারে দূরে থাকে—এটি ভালো লক্ষণ নয়। ফজর পর্যন্ত ঘুম, শয়তানের প্রভাব এবং রাতের নামাজ—এই তিনটি বিষয় হাদিসে সরাসরি উঠে এসেছে। তাই একজন মুসলিমের উচিত ঘুমের বিষয়ে সচেতন থাকা, বিশেষ করে এমন ঘুম থেকে বাঁচা যা তাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সারা রাত গাফলতে কাটানো নিন্দনীয় বিষয়।
- শয়তান মানুষকে ঘুম ও অলসতার মাধ্যমে ইবাদত থেকে দূরে রাখতে চায়।
- ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকা বিষয়ে মুমিনের সতর্ক থাকা দরকার।
