৭/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৯৪ - জুমার খুতবায় চুপ থাকা
জুমার দিন খুতবা চলাকালীন চুপ থাকা।
জুমার খুতবায় চুপ থাকা: ‘চুপ থাক’ বলাও কেন বেহুদা কথা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৪৯৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪৯৪
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ، وَالإِمَامُ يَخْطُبُ، فَقَدْ لَغَوْتَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ জুমার দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লীকে চুপ থাক বলবে, অথচ ইমাম খুত্বা দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি বেহুদা কথা বললে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১১: জুমুআহ, অধ্যায় ৩৬, হাঃ ৯৩৪; মুসলিম, পর্ব ৭ জুমুআহর বর্ণনা, অধ্যায় ৩, হাঃ ৮৫১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় জুমার খুতবায় চুপ থাকা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, জুমার দিন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন—এমন সময় তুমি যদি পাশের মুসল্লীকে ‘চুপ থাক’ বলো, তাহলে তুমি একটি বেহুদা কথা বললে। এখানে শিক্ষা খুব সূক্ষ্ম। সাধারণভাবে কাউকে চুপ করানো ভালো মনে হতে পারে, কিন্তু খুতবার সময় নিজের মুখ খোলা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তাই ‘জুমার খুতবায় কথা বলা’ বা ‘খুতবার সময় চুপ থাকা’ বিষয়ে এই হাদিসটি সরাসরি নির্দেশনা দেয়। এর মানে হলো, খুতবা শুরু হলে মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলা দরকার। হাদিসে শুধু পাশের মুসল্লীকে বলা কথার উদাহরণ এসেছে, তাই ব্যাখ্যাও সেই সীমায় রাখা উচিত। তাই খুতবার সময় নিজের জিহ্বা সামলে রাখা এই হাদিসের সবচেয়ে সরাসরি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম খুতবা দিলে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- পাশের মুসল্লীকে ‘চুপ থাক’ বলাও বেহুদা কথা হিসেবে এসেছে।
- খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা দরকার।
- ভালো উদ্দেশ্যের কথাও খুতবার সময় এড়িয়ে চলার শিক্ষা পাওয়া যায়।
