৮/০. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫১০ - ঈদগাহে প্রথমে সালাত তারপর খুতবা

ঈদাইন বা দুই ঈদের সালাত

ঈদগাহে প্রথম কাজ সালাত: ঈদের খুতবা পরে

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫১০

حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُول اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى، فَأَوَّلُ شَيْءٍ يَبْدأُ بِهِ الصَّلاَةُ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ، وَالنَّاسُ جُلُوسٌ عَلَى صُفُوفِهِمْ، فَيَعِظُهُمْ وَيُوصِيهِمْ وَيَأْمُرُهُمْ، فَإِنْ كَانَ يُريدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا، قَطَعَهُ؛ أَوْ يَأْمُرَ بِشَيْءٍ، أَمَرَ بِهِ؛ ثُمَّ يَنْصَرِفقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَلَمْ يَزَلِ النَّاسُ عَلَى ذلِكَ حَتَّى خَرَجْتُ مَعَ مَرْوَانَ، وَهُوَ أَميرُ الْمَديِنةِ، فِي أَضْحًى أَوْ فِطْرٍ، فَلَمَّا أَتَيْنَا الْمُصَلَّى إِذَا مِنْبَرٌ بَنَاهُ كَثيرُ بْنُ الصَّلْتِ، فَإِذَا مَرْوَانُ يُريدُ أَنْ يَرْتَقِيَهُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَجَبَذْتُ بِثَوْبِهِ، فَجَبَذَنِي، فَارْتَفَعَ فَخَطَبَ قَبْلَ الصَّلاَةِ؛ فَقُلْتُ لَهُ: غَيَّرْتُمْ وَاللهِ فَقَالَ: أَبَا سَعِيدٍ قَدْ ذَهَبَ مَا تَعْلَمُ؛ فَقُلْتُ: مَا أَعْلَمُ، وَاللهِ خَيْرٌ مِمَّا لاَ أَعْلَمُ، فَقَالَ: إِنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَجْلِسُونَ لَنَا بَعْدَ الصَّلاَةِ فَجَعَلْتُهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) ঈদুল ফিত্‌র ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হল সালাত। আর সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা তাঁদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাঁদের নসীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছে করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারি করার ইচ্ছে করতেন তবে তা জারি করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল।অবশেষে যখন মারওয়ান মাদীনার আমীর হলেন, তখন ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিত্‌রের উদ্দেশ্যে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ঈদগাহে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বার দেখতে পেলাম, সেটি কাসীর ইব্‌নু সাল্ত (রাঃ) তৈরি করেছিলেন। মারওয়ান সালাত আদায়ের পূর্বেই এর উপর আরোহণ করতে উদ্যত হলেন। আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম। কিন্তু তিনি কাপড় ছাড়িয়ে খুত্‌বাহ দিলেন।আমি তাকে বললাম, আল্লাহ্‌র কসম! তোমরা (রাসূলের সুন্নাত) পরিবর্তন করে ফেলেছ। সে বলল, হে আবূ সা‘ঈদ! তোমরা যা জানতে, তা গত হয়ে গেছে। আমি বললাম, আল্লাহ্‌র কসম! আমি যা জানি, তা তার চেয়ে ভাল, যা আমি জানি না। সে তখন বলল, লোকজন সালাতের পর আমাদের জন্য বসে থাকে না, তাই আমি খুত্‌বাহ সালাতের পূর্বেই দিয়েছি।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ১৩ দু' ঈদ, অধ্যায় ৬, হাঃ ৯৫৬; মুসলিম, পর্ব ৮; ঈদাইন বা দু' ঈদের সালাতঃ, হাঃ ৮৮৯

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫১০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈদগাহে ঈদের সালাতের পদ্ধতি। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে যেতেন এবং প্রথমে সালাত শুরু করতেন। সালাত শেষ হলে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন, আর লোকেরা কাতারে বসে থাকত। তিনি তাঁদের নসীহত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন। পরে বর্ণনায় দেখা যায়, মারওয়ান সালাতের আগে খুতবা দিতে চাইলে আবূ সাঈদ (রাঃ) আপত্তি করেন এবং এটিকে পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। এই হাদিসে ঈদের মূল ধারাবাহিকতা খুব পরিষ্কার: ঈদগাহে যাওয়া, আগে সালাত, তারপর খুতবা ও নসীহত। তাই ঈদের খুতবা নিয়ে আলোচনায় এই বর্ণনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم ঈদগাহে গিয়ে প্রথমে সালাত শুরু করতেন।
  • সালাত শেষে তিনি লোকদের নসীহত ও নির্দেশ দিতেন।
  • সাহাবী আবূ সাঈদ (রাঃ) সুন্নাত পরিবর্তন হওয়ায় আপত্তি করেছেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন