১২/৪১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬২৪ - প্রকৃত ধনী অন্তরের ধনী
দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে যা বেরিয়ে আসবে সে ব্যাপারে ভয় করা।
প্রকৃত ধনী কে? অন্তরের ধনী হওয়ার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬২৪
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বৈষয়িক প্রাচুর্য ঐশ্বর্য নয় বরং প্রকৃত ঐশ্বর্য হল অন্তরের ঐশ্বর্য।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১: সদয় হওয়া, অধ্যায় ১৫, হাঃ ৬৪৪৬; মুসলিম, পর্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪০, হাঃ ১০৫১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস খুব ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা অনেক গভীর ও সহজ। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বৈষয়িক প্রাচুর্যই ধনী হওয়া নয়; প্রকৃত ধন হলো অন্তরের ধন। অর্থাৎ কারও কাছে অনেক সম্পদ থাকতে পারে, কিন্তু তার মন অশান্ত ও অস্থির হতে পারে। আবার কারও সম্পদ কম হলেও সে অন্তরে তৃপ্ত থাকতে পারে। হাদিসটি সম্পদকে অস্বীকার করছে না; বরং সম্পদের সংখ্যাকে মানুষের আসল মূল্য বানাতে নিষেধ করছে। আমাদের সমাজে ধন বলতে সাধারণত টাকা, বাড়ি, ব্যবসা বা জিনিসপত্র বোঝানো হয়। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) আমাদের দৃষ্টি ভেতরের দিকে ফিরিয়েছেন। সন্তুষ্ট মন, কম চাহিদা এবং আল্লাহর দেওয়া অবস্থায় শান্ত থাকা—এসবই অন্তরের ধন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বেশি সম্পদ থাকা মানেই প্রকৃত ধনী হওয়া নয়।
- অন্তরের তৃপ্তি মানুষের বড় সম্পদ।
- সম্পদের পরিমাণ দিয়ে মানুষের আসল মূল্য মাপা ঠিক নয়।
- কম চাহিদা ও শান্ত মন ধনীর মতো জীবন গড়তে সাহায্য করে।
