১৩/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৫৩ - চাঁদ দেখে রমাযান শুরু ও শেষ করার বিধান
চাঁদ দেখে রমাযানের সাওম রাখা এবং চাঁদ দেখে ছেড়ে দেয়া অপরিহার্য এবং যদি প্রথমে বা শেষে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাহলে ত্রিশ দিনে মাস পূর্ণ করবে।
চাঁদ দেখে রোজা: রমাযান শুরু ও শেষের নববী নির্দেশ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬৫৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬৫৩
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَكَرَ رَمَضَانَ، فَقَالَ: لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ، وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমজানের কথা আলোচনা করে বললেনঃ চাঁদ না দেখে তোমরা সাওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করবে না। যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার সময় (ত্রিশ দিন) পরিমাণ পূর্ণ করবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩০: সওম, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৯০৬; মুসলিম, পর্ব ১৩; সওম, অধ্যায় ২, হাঃ ১০৮০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রমাযানের শুরু ও শেষ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, চাঁদ না দেখে তোমরা সাওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করবে না। এখানে ইফতার বলতে রমাযান শেষ করে ঈদের দিকে যাওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে এবং চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে মাসের সময় পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। তাই চাঁদ দেখে রোজা শুরু করা এবং চাঁদ দেখে রমাযান শেষ করা—এটি হাদিসের মূল শিক্ষা। এতে মুসলিমদের ইবাদতে শৃঙ্খলা আসে এবং নিজের অনুমান দিয়ে রোজা শুরু বা শেষ করার পথ বন্ধ হয়। হাদিসটি আরও বোঝায়, আকাশ পরিষ্কার না থাকলে তাড়াহুড়া করা নয়; বরং গণনা পূর্ণ করা দরকার। সিয়াম একটি ইবাদত, তাই তার সময় নির্ধারণও নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ অনুযায়ী হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমাযান শুরু করার আগে চাঁদ দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
- রমাযান শেষ করতেও চাঁদ দেখার নির্দেশ এসেছে।
- মেঘ থাকলে মাসের গণনা পূর্ণ করতে হয়।
- অনুমানের বদলে নববী নির্দেশ মেনে চলা দরকার।
