১৩/৩৫. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭১৮ - লাগাতার সাওম নয়, দাউদী সাওম

সাওম দাহর (একাধারে এক যুগ) সাওম করা ঐ ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ, যার এর মাধ্যমে ক্ষতি হবে অথবা এর মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট হবে অথবা দুই ঈদে সাওম ভঙ্গ না করা এবং তাশরীকের দিনগুলোতে সাওম ভঙ্গ না করা এবং একদিন বিরতি দিয়ে সাওম করার ফাযায়েল।

লাগাতার সাওম নয়: দাউদী সাওম ও শরীরের হকের শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭১৮

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: بَلَغَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي أَسْرُدُ الصَّوْمَ وَأُصَلِّي اللَّيْلَ، فَإِمَّا أَرْسَلَ إِلَيَّ وَإِمَّا لَقِيتُهُ، فَقَالَ: أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ وَلاَ تُفْطِرُ وَتُصَلِّي؛ فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَقُمْ وَنَمْ، فَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَظًّا، وَإِنَّ لِنَفْسِكَ وَأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَظًّا قَالَ: إِنِّي لأَقْوَى لِذلِكَ قَالَ: فَصُمْ صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ: وَكَيْفَ [ص: 23] قَالَ: كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، وَلاَ يَفِرُّ إِذَا لاَقَى قَالَ: مَنْ لِي بِهذِهِ، يَا نَبِيَّ اللهِ قَالَ عَطَاءٌ (أَحَد الرُّوَاة) : لاَ أَدْرِي كَيْفَ ذَكَرَ صِيَامَ الأَبَدِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ مَرَّتَيْنِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছে যে, আমি একটানা সাওম পালন করি এবং রাতভর সালাত আদায় করি। এরপর হয়ত তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন অথবা আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি এ কথা ঠিক শুনিনি যে, তুমি সাওম পালন করতে থাক আর ছাড় না এবং তুমি (রাতভর) সালাত আদায় করতে থাক আর ঘুমাও না? (আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন)ঃ তুমি সাওম পালন কর এবং মাঝে মাঝে তা ছেড়েও দাও। রাতে সালাত আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে এবং তোমার নিজের শরীরের ও তোমার পরিবারের হক তোমার উপর আছে।‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমি এর চেয়ে বেশি শক্তি রাখি। তিনি [আল্লাহর রাসূল (ﷺ)] বললেনঃ তাহলে তুমি দাঊদ (আঃ)-এর সিয়াম পালন কর। রাবী বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ দাঊদ (আঃ) একদিন সাওম পালন করতেন, একদিন ছেড়ে দিতেন এবং তিনি (শত্রুর) সম্মুখীন হলে পলায়ন করতেন না। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এ শক্তি কে যোগাবে?বর্ণনাকারী ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, (এ হাদীসে) কিভাবে সব সময়ের সিয়ামের প্রসঙ্গ আসে সে কথাটুকু আমার মনে নেই (অবশ্য) এতটুকু মনে আছে যে, নবী (ﷺ) দুইবার এ কথাটি বলেছেন, সব সময়ের সাওম কোন সাওম নয়।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩০; সওম, অধ্যায় ৫৭, হাঃ ১৯৭৭; মুসলিম, পর্ব ১৩: সওম, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ১১৫৯

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭১৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর লাগাতার সাওম ও রাতভর সালাতের কথা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, সাওম রাখো এবং মাঝে মাঝে ছাড়ো; রাতে সালাত আদায় করো এবং ঘুমাও। কারণ চোখের হক আছে, শরীরের হক আছে, পরিবারের হক আছে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বেশি শক্তির কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) দাউদ (আঃ)-এর সাওমের পদ্ধতি শেখান—একদিন সাওম, একদিন বিরতি। হাদিসে আরও এসেছে, সব সময়ের সাওম কোনো সাওম নয়। অর্থাৎ ইবাদতে এমন পদ্ধতি দরকার, যা শরীর ও পরিবারের হক নষ্ট করে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাওম ও রাতের ইবাদতে শরীরের হক ভুলে যাওয়া যাবে না।
  • দাউদী সাওম হলো একদিন সাওম, একদিন বিরতি।
  • সব সময়ের সাওমকে হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন