১৫/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৪৬ - হারামে ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা
হারাম শরীফের আওতার ভিতর এবং আওতার বাইরে মুহরিম এবং অন্যান্যদের জন্য যে সমস্ত প্রাণী হত্যা করার অনুমতি আছে।
হারামে ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা: পাঁচ প্রাণীর বিষয়ে হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭৪৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭৪৬
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ، كُلُّهُنَّ فَاسِقٌ، يُقْتَلْنَ فِي الْحَرَمِ: الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী এত ক্ষতিকর যে, এগুলোকে হারামের মধ্যেও হত্যা করা যেতে পারে। (যেমন) কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৮: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৮২৯; মুসলিম, পর্ব ১৫ হজ, অধ্যায় ৯, হাঃ ১১৯৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হারামের মধ্যে ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পাঁচ ধরনের প্রাণীর কথা বলেছেন, যেগুলো এত ক্ষতিকর যে হারাম এলাকার মধ্যেও এগুলো হত্যা করা যেতে পারে। বর্ণনায় কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর এবং হিংস্র কুকুরের নাম এসেছে। হারাম এলাকা সম্মানিত, তাই সেখানে প্রাণী হত্যা বিষয়ে সাধারণভাবে সতর্কতা থাকে। কিন্তু এই হাদিসে ক্ষতি থেকে বাঁচার একটি নির্দিষ্ট অনুমতি দেখা যায়। এখানে অনুমতিটি সব প্রাণীর জন্য নয়, বরং হাদিসে উল্লেখিত ক্ষতিকর প্রাণীর জন্য বলা হয়েছে। তাই হাদিসটি আমাদের শেখায়, ইসলামের বিধানে সম্মানিত স্থানের মর্যাদা যেমন আছে, তেমনি মানুষের ক্ষতি দূর করার বিষয়ও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হারাম এলাকার মর্যাদা আছে, তবে ক্ষতিকর প্রাণীর ক্ষেত্রে আলাদা অনুমতি এসেছে।
- হাদিসে নির্দিষ্ট পাঁচ ধরনের ক্ষতিকর প্রাণীর কথা বলা হয়েছে।
- ক্ষতি দূর করার প্রয়োজনকে ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বিধান বুঝতে হাদিসে যে প্রাণীগুলোর নাম এসেছে, সেগুলো আলাদা করে দেখা দরকার।
