১৫/৪৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮০৬ - হজ্জে তালবিয়া ও তাকবীরের সুযোগ
আরাফার দিন মিনা থেকে আরাফার ময়দানে যাওয়ার সময় তালবিয়া ও তাকবীর পাঠ।
হজ্জে তালবিয়া ও তাকবীর: ভিন্ন আমলে সহনশীলতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৮০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮০৬
حديث أَنَسٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسًا، وَنَحْنُ غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلَى عرَفَاتٍ، عَنِ التَّلْبِيَةِ، كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ يُلَبِّى الْمُلَبِّى، لاَ يُنْكَرُ عَلَيْهِ؛ وَيُكَبِّرُ الْمُكَبِّرُ، فَلاَ يُنْكَرُ عَلَيْهِ
মুহাম্মদ ইব্নু আবূ বাক্র সাকাফী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা সকাল বেলা মিনা হতে যখন আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)-এর নিকট তালবিয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, তালবিয়াহ পাঠকারী তালবিয়াহ পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করত, তাকেও নিষেধ করা হতো না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১৩। দু' ঈদ, অধ্যায় ১২, হাঃ ৯৭০; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৪৬, হাঃ ১২৮৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মিনার দিক থেকে আরাফাতের পথে সাহাবাদের আমল সম্পর্কে জানা যায়। বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে তাঁরা তালবিয়া বিষয়ে কী করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যে তালবিয়া পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। আর যে তাকবীর পড়ত, তাকেও নিষেধ করা হতো না। এই বর্ণনা খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা সহজ ও সুন্দর। হজ্জে তালবিয়া পাঠ এবং তাকবীর পাঠ—দুই ধরনের যিকরের কথা এখানে এসেছে। কেউ তালবিয়া পড়ছে আর কেউ তাকবীর বলছে—এ কারণে ঝগড়া বা দোষারোপ করা হয়নি। তাই এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে থাকা সাহাবাদের মধ্যে কিছু বৈধ আমলে ভিন্নতা থাকলেও তা নিয়ে অকারণ কঠোরতা করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জের পথে তালবিয়া পাঠকারীদের নিষেধ করা হতো না।
- তাকবীর পাঠকারীদেরও বাধা দেওয়া হতো না।
- সাহাবাদের আমলে কিছু ভিন্নতা থাকলেও তা নিয়ে দোষারোপ করা হয়নি।
- ইবাদতের বৈধ ধরন নিয়ে অযথা কড়াকড়ি করা ঠিক নয়।
