৪/৩০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৭১-[৫] - আসরের আগে চার রাকআত ও সালাম

সুন্নাত ও এর ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানে সুন্নাত বলতে সে সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য যেগুলো দিবা ও রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সাথে আদায় করা হয় এবং রাসূল (ﷺ) তা নিয়মিত আদায় করতেন। যাকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয় এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ও বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মতানুসারে রাওয়াতিব সালাতসমূহ বিধিসম্মত এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সংখ্যাও নির্ধারিত। চাই তা ফরয সালাতের পূর্বে অথবা পরে হোক। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ও নেই এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও নেই। তবে ফরয সালাতের পূর্বে বা পরে ইচ্ছানুযায়ী নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে কোন বাধা নেই।ইবনু দাক্বীক্ব আল ‘ঈদ বলেন, ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমাত এই যে, মানুষ যখন দুনিয়াবী ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তখন ‘ইবাদাত হতে দূরে থাকার ফলে তার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে ‘আসর প্রস্তুতি স্বরূপ এ সালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে বান্দা ফরয সালাতে পূর্ণমাত্রায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। আর ফরয সালাতের পরের সুন্নাত সালাত ফরয সালাতের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি তামীম আদ্ দারী সূত্রে মারফূ‘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নিবেন।যদি সালাত পরিপূর্ণ পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি বান্দা সালাত পূর্ণ না করে থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা মালাককে (ফেরেশতাকে) বলবেন, তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল সালাত পাও কিনা, পাওয়া গেলে তা দ্বারা তার ফরয পূর্ণ করে দাও, অতঃপর যাকাতের ব্যাপারে ও অন্যান্য আ‘মালের ব্যাপারেও অনুরূপ করা হবে। এ হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম নাবাবী বলেন, ফরয সালাতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাতে আদায় করা বৈধ ও গ্রহণীয়। আর ফরয সালাত আদায় না করা পর্যন্ত মুসল্লীর নফল সালাত কবূল হবে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি য‘ঈফ।আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, সুন্নাত, নফল, তাত্বা‘উ, মানদূব ও মুস্তাহাব এ সবই সমার্থক। সবগুলো শব্দই এক অর্থ বহন করে।

আসরের আগে চার রাকআত সালাতের পদ্ধতি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৭১-[৫]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُصَلِّىْ قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤمنِيْنَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাতের (ফার্‌যের) পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। এ চার রাকাতের মধ্যখানে সালাম ফিরানোর দ্বারা নিকটবর্তী মালাক (ফেরেশ্‌তা) এবং তাঁদের অনুসারী মুসলিম ও মু’মিনীনদের মাঝে পার্থক্য করতেন। (তিরমিযী) [১]

[১] হাসান : আত্ তিরমিযী ৪২৯।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৭১-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের ফরজ সালাতের আগে চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। বর্ণনায় আরও আছে, তিনি এ চার রাকআতের মাঝখানে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে আলাদা করতেন। সেই সালামে নিকটবর্তী ফেরেশতা এবং তাদের অনুসারী মুসলিম ও মুমিনদের প্রতি সালামের কথা এসেছে। তাই আসরের আগে চার রাকআত সালাতের ক্ষেত্রে এই হাদিস শুধু রাকআতের সংখ্যা নয়, সালাম দিয়ে আলাদা করার একটি বর্ণনাও দেয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো—আসরের আগে নফল সালাত নবীজির আমলে ছিল। তবে হাদিসের ভাষাকে অতিক্রম করে অন্য কোনো বাড়তি নিয়ম এই টেক্সট থেকে বলা উচিত নয়। এ কারণে ব্যাখ্যায় হাদিসের মূল শব্দ ও বর্ণনার সীমা ধরে রাখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি আসরের আগে চার রাকআত সালাত আদায় করতেন বলে বর্ণনায় এসেছে।
  • চার রাকআতের মাঝখানে সালাম দিয়ে আলাদা করার কথা উল্লেখ হয়েছে।
  • নফল সালাতের পদ্ধতিতেও সালামের আদব গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন