৪/৪৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪১৭-[৫] - খুতবায় হাত তোলার সীমা
খুতবা ও সালাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জুমার খুতবায় হাত তোলা ও তর্জনী ইশারা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৪১৭-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৪১৭-[৫]
وَعَن عمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ: أَنَّه رَأَى بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ رَافِعًا يَدَيْهِ فَقَالَ: قَبَّحَ اللّهُ هَاتَيْنِ الْيَدَيْنِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ مَا يَزِيدُ عَلى أَنْ يَقُولَ بِيَدِه هَكَذَا وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ الْمُسَبَّحَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘উমারাহ্ ইবনু রুওয়াইবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বিশর ইবনু মারওয়ান-কে মিম্বরের উপরে দুইহাত উঠিয়ে জুমু’আর খুতবা দিতে দেখে বললেন, আল্লাহ তার এ হাত দুইটিকে ধ্বংস করুন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভাষণ পেশ করার সময় দেখেছি, তিনি তাঁর হাত এর অধিক উঁচুতে উঠাতেন না। এ কথা বলে 'উমারাহ্ তর্জনী উঠিয়ে (রাসূলের হাত উঁচুতে উঠাবার) পরিমাণের দিকে ইঙ্গিত দিলেন। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮৭৪, আবূ দাঊদ ১১০৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৫৪৯৭, দারিমী ১৬০১, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৪৫১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৭৭৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০৭৯, ইবনু হিব্বান ৮৮২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪১৭-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমারাহ ইবনু রুয়াইবাহ (রাঃ) দেখলেন, বিশর ইবনু মারওয়ান মিম্বারে দুই হাত উঠিয়ে খুতবাহ্ দিচ্ছেন। তিনি এতে আপত্তি করলেন এবং বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভাষণ পেশ করার সময় এর চেয়ে বেশি হাত তুলতে দেখেননি। এরপর তিনি তর্জনী উঠিয়ে ইশারা করলেন। এখানে জুমার খুতবা, খুতবায় হাত তোলা এবং তর্জনী দিয়ে ইশারার বিষয়টি এসেছে। হাদিসের ভাষা দেখায়, সাহাবীরা খুতবাহ্র আদব ও পদ্ধতি নিয়ে সচেতন ছিলেন। তবে এখানে শুধু খুতবার সময়কার হাতের ভঙ্গি নিয়ে বর্ণনা এসেছে; তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত সাধারণ সিদ্ধান্ত না দেওয়াই ভালো। মূল শিক্ষা হলো, খুতবাহ্তে সংযত ভঙ্গি রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবাহ্ দেওয়ার সময় হাতের ভঙ্গিতেও সংযম থাকা উচিত।
- সাহাবীরা নবীজির খুতবার পদ্ধতি দেখে তা অনুসরণে গুরুত্ব দিতেন।
- তর্জনী দিয়ে ইশারার বর্ণনা এসেছে, দুই হাত বেশি উঠানোর নয়।
