৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫২৯-[৭] - রোগীকে সান্ত্বনা দেওয়ার আদব
রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।
রোগীকে সান্ত্বনা দেওয়ার নববী দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫২৯-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫২৯-[৭]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَى اعْرَابِيٍّ يَعُودُه وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلى مَرِيضٍ يَعُودُه قَالَ: «لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ» فَقَالَ لَه: «لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ». قَالَ: كَلَّا بَلْ حُمّى تَفُوْرُ عَلى شَيْخٍ كَبِيْرٍ تَزِيْرُهُ الْقُبُوْرُ. فَقَالَ: «فَنَعَمْ إِذَنْ». رَوَاهُ البُخَارِيُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) একবার একজন অসুস্থ বেদুইনকে দেখতে গেলেন। আর কোনো রোগীকে দেখতে গেলে তিনি বলতেন, ‘ভয় নেই, আল্লাহ চান তো তুমি খুব শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবে। এ রোগ তোমার পবিত্র হবার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ এ নিয়ম অনুযায়ী তিনি বেদুইনকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘ভয় নেই, তুমি ভালো হয়ে যাবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এটা তোমার পবিত্র হবার কারণ হয়ে যাবে।’ তাঁর কথা শুনে বেদুইন বলল, কক্ষনো নয়। বরং এটা এমন এক জ্বর, যা একজন বৃদ্ধ লোকের শরীরে ফুঁটছে। এটা তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। তার কথা শুনে এবার নবী (ﷺ) বললেন, আচ্ছা, তুমি যদি তাই বুঝে থাক তবে তোমার জন্য তা-ই হবে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩৬১৬, ৫৬৫৬, ৫৬৬২, ইবনু হিব্বান ২৯৫৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৭১৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫২৯-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) একজন অসুস্থ বেদুইনকে দেখতে যান এবং রোগী দেখার সময় তিনি যে কথা বলতেন তা বলেন: ভয় নেই, আল্লাহ চাইলে এটি পবিত্রতার কারণ হবে। এতে রোগীর সঙ্গে কথা বলার সুন্দর আদব পাওয়া যায়। অসুস্থ মানুষকে ভয় দেখানো নয়, বরং আশার কথা বলা, আল্লাহর ইচ্ছার দিকে মন ফেরানো এবং পবিত্রতার কথা স্মরণ করানো—এটাই এখানে শিক্ষা। তবে বেদুইন ব্যক্তি নিজের রোগকে খুব ভয়ংকরভাবে ব্যাখ্যা করল এবং বলল, এটি তাকে কবরে নিয়ে যাবে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তুমি যদি তাই বুঝে থাক, তবে তোমার জন্য তা-ই হবে। হাদিসটি রোগীর সামনে ভালো কথা বলার গুরুত্ব বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগী দেখতে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া সুন্দর আদব।
- অসুস্থতার সময় ভালো কথা বলা রোগীর মনে আশা জাগাতে পারে।
- রোগকে আল্লাহর ইচ্ছায় পবিত্রতার কারণ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।
- রোগীর মুখেও হতাশামূলক কথা এড়িয়ে চলা ভালো।
