১/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৭-[১৮] - অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঈমানী অবস্থান
কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা - প্রথম অনুচ্ছেদ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান: ঈমানের বাস্তব শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৭-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৭-[১৮]
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللّهُ فِي أُمَّتِه قَبْلِي اِلَّا كَانَ لَه فِيْ أُمَّتِه حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِه وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِه ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِه فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِه فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন নবীকে তাঁর উম্মাতের মধ্যে পাঠাননি, যাঁর উম্মাতের মধ্যে কোন সাহায্যকারী বা সাহাবীর দল ওই উম্মাতে ছিল না। এ তাঁরা সুন্নাতের পথ অনুসরণ করেছে, তাঁর হুকুম-আহকাম মেনে চলেছে।তারপর এমন লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হল, যারা অন্যদেরকে যা বলত নিজেরা তা করত না। আর তাঁরা সে সব কাজ করত যার আদেশ (শারী‘আতে) তাদেরকে দেয়া হয়নি। (আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন কতিপয় লোক থাকতে পারে)। তাই যে নিজের হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে (পূর্ণ) মুমিন। আর যে মুখের দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মুমিন। আর যে অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মুমিন। আর এরপর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৫০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৭-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আগের নবীদের উম্মতের কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে সাহায্যকারী ও সহাবীদের দল ছিল, যারা নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করত এবং তাঁর হুকুম মেনে চলত। পরে এমন লোক আসে, যারা যা বলে তা নিজেরা করে না, আর এমন কাজ করে যার আদেশ তাদের দেওয়া হয়নি। এরপর হাদিসে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে হাত দিয়ে জিহাদ করলে সে মু’মিন, মুখ দিয়ে করলে সে মু’মিন, আর অন্তর দিয়ে করলে সেও মু’মিন। তারপর এর নিচে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান নেই বলে সতর্ক করা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, অন্যায় দেখেও উদাসীন থাকা ঠিক নয়। তবে অবস্থান নেওয়ার ধরন বাস্তব অবস্থা ও সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। অন্তত অন্তরে অন্যায়কে অপছন্দ করা ঈমানী দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীদের সত্য অনুসারীরা তাঁদের সুন্নাহ ও নির্দেশ মেনে চলতেন।
- যা বলা হয় তা নিজে না করা নিন্দনীয় আচরণ।
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী অবস্থান নেওয়া ঈমানের অংশ।
- অন্তরে অন্যায়কে অপছন্দ করাও ঈমানী অবস্থানের একটি স্তর।
