৬/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৯৭-[৪] - ফসলের উশর ও নিসফে উশর
যেসব জিনিসের যাকাত দিতে হয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফসলের যাকাতে উশর ও অর্ধ উশর
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৯৭-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৯৭-[৪]
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا الْعُشْرُ. وَمَا سُقِىَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ». رَوَاهُ البُخَارِيُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে স্থান আকাশের অথবা প্রবাহিত কূপের পানিতে সিক্ত হয় অথবা যা নালার পানিতে তরতাজা হয়, তাতে ‘উশর (১০ভাগের ১ভাগ) আদায় করতে হবে। আর যে সব ফসল সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় তাতে নিস্ফে ‘উশর (২০ভাগের ১ভাগ) আদায় করতে হবে। (বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৮৩, আবূ দাঊদ ১৫৯৬, আত্ তিরমিযী ৬৪০, নাসায়ী ২৪৮৮, ইবনু মাজাহ্ ১৮১৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৪৮৫, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৮০, ইরওয়া ৭৯৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৯৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জমির ফসলের যাকাত বা উশর নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে জমি আকাশের পানি, প্রবাহিত কূপের পানি বা নালার পানিতে সিক্ত হয়, তাতে উশর অর্থাৎ দশ ভাগের এক ভাগ আদায় করতে হবে। আর যে ফসল সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, তাতে নিসফে উশর বা বিশ ভাগের এক ভাগ আদায় করতে হবে। হাদিসটি ফসলের যাকাতে পানির উৎসকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে পানি পেলে হার একরকম, আর শ্রম বা সেচের মাধ্যমে পানি দিলে হার কম। এতে বোঝা যায়, যাকাতের বিধানে মানুষের পরিশ্রম ও খরচের বিষয়ও বিবেচনা করা হয়েছে। তাই কৃষি যাকাতের হিসাব করতে ফসলের পরিমাণের পাশাপাশি পানি দেওয়ার পদ্ধতিও জানা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাকৃতিক পানিতে উৎপাদিত ফসলে দশ ভাগের এক ভাগ আদায়ের কথা এসেছে।
- সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলে বিশ ভাগের এক ভাগ আদায়ের কথা এসেছে।
- ফসলের যাকাতে পানির উৎস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- যাকাতের বিধান মানুষের শ্রম ও খরচের দিকও বিবেচনা করে।
