৯/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৩৪-[১২] - বিপদে ও বিপদের আগে দু‘আর উপকার
দোয়া - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঘটা ও না-ঘটা বিপদের জন্য দু‘আর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২২৩৪-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২৩৪-[১২]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ الدُّعَاءَ يَنْفَعُ مِمَّا نَزَلَ وَمِمَّا لَمْ يَنْزِلْ فَعَلَيْكُمْ عِبَادَ اللّٰهِ بِالدُّعَاءِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে দোয়া ঐ সব কিছুর জন্যই কল্যাণকামী যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা এখনো সংঘটিত হয়নি। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দোয়া করাকে নিজের প্রতি খুবই জরুরি মনে করবে বা যত্নবান হবে। (তিরমিযী)[১]
[১] হাসান লিগয়রিহী : তিরমিযী ৩৫৪৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮১৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৬৩৪, সহীহ আল জামি‘ ৩৪০৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৩৪-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দু‘আর উপকারিতা ব্যাপকভাবে বলা হয়েছে, তবে ভাষা অনুযায়ী সীমা রেখে বুঝতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু‘আ সেই বিষয়েও উপকার করে যা সংঘটিত হয়েছে এবং সেই বিষয়েও যা এখনো সংঘটিত হয়নি। এরপর তিনি আল্লাহর বান্দাদের দু‘আ করতে যত্নবান হতে বলেছেন। এতে বোঝা যায়, শুধু বিপদ আসার পর নয়, বিপদ আসার আগেও আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সাহায্য চাওয়া উচিত। মুমিন জানে, সে নিজে ভবিষ্যৎ জানে না এবং সবকিছু আল্লাহর হাতে। তাই স্বচ্ছলতা, সংকট, ভয়, আশা—সব অবস্থায় দু‘আর দরজা খোলা রাখা দরকার। এই হাদিস দু‘আকে জীবনের নিয়মিত অংশ বানাতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দু‘আ ঘটে যাওয়া বিষয় ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা—দুই ক্ষেত্রেই উপকারী হতে পারে।
- বিপদ আসার আগে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া উচিত।
- আল্লাহর বান্দাদের দু‘আতে যত্নবান হতে বলা হয়েছে।
- দু‘আকে শুধু শেষ মুহূর্তের কাজ না ভেবে নিয়মিত করা দরকার।
