১০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ০ - ইসমে আযম দিয়ে দোয়া
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ইসমে আযম দিয়ে দোয়া করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ০
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ০
وَعَن بُرَيْدَةَ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: اللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَه كُفُوًا أَحَدٌ فَقَالَ: «دَعَا اللّٰهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ الَّذِىْ إِذَا سُئِلَ بِه أَعْطٰى وَإِذَا دُعِىَ بِه أَجَابَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারো থেকে জন্মও নন। যার কোন সমকক্ষ নেই।’ তখন তিনি (ﷺ) বললেন, এ ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলাকে তার ইস্মে আ‘যম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামে ডাকল। এ নামে ডেকে তাঁর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং কেউ ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৯৩, তিরমিযী ৩৪৭৫, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৭, আহমাদ ২২৯১৫, ইবনু হিব্বান ৮৯১, শু‘আবূল ঈমান ২৩৬৬, সহীহ আত্ তারগীব ১৬৪০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইসমে আযম দিয়ে দোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে শুনলেন, সে আল্লাহকে ডাকছে এভাবে যে, তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো সত্য মা‘বূদ নেই, তুমি এক ও অনন্য, তুমি অমুখাপেক্ষী, তুমি কাউকে জন্ম দাওনি, কারো থেকে জন্ম নও এবং তোমার কোনো সমকক্ষ নেই। তখন নবীজি বললেন, সে আল্লাহকে তাঁর ইসমে আযম বা মহান নামে ডাকল। এই নামে দোয়া করলে আল্লাহ দান করেন এবং ডাকলে সাড়া দেন—এ কথা হাদিসে এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, দোয়ার আগে আল্লাহর একত্ব, পবিত্রতা ও পূর্ণতা স্বীকার করা বড় আদব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ায় আল্লাহর একত্ব ও অমুখাপেক্ষিতা উল্লেখ করা উত্তম।
- ইসমে আযম দিয়ে দোয়ার ফজিলত এই হাদিসে এসেছে।
- আল্লাহর কোনো সমকক্ষ নেই—এ বিশ্বাস দোয়ার মূল অংশ।
- দোয়া করার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও পরিচয় স্মরণ করা উচিত।
