১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৩৯-[১৭] - নিয়মিত ইস্তিগফারের ফজিলত
ক্ষমা ও তাওবা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নিয়মিত ইস্তিগফারের ফজিলত ও উপকার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৩৯-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৩৯-[১৭]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللّٰهُ لَه مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَه مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ». رَوَاهُ أحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি। (আহমদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৫১৮, ইবনু মাজাহ ৩৮১৯, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৮৮২, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১১৪৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৮২৯, আহমাদ ২২৩৪, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৬৬৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪২১, য‘ঈফাহ্ ৭০৫। কারণ এর সনদে হাকাম একজন মাজহূল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৩৯-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ খুলে দেন, প্রত্যেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করেন এবং এমন জায়গা থেকে রিযক দেন, যা সে ভাবতেও পারেনি। এখানে ইস্তিগফারের ফজিলত খুব সুন্দরভাবে এসেছে। তবে এ কথা বুঝতে হবে, ইস্তিগফার শুধু মুখের অভ্যাস নয়; এটি আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর ওপর ভরসা করার আমল। হাদিসে সংকীর্ণতা, দুশ্চিন্তা ও রিযকের কথা এসেছে—তাই জীবনের চাপ, অনিশ্চয়তা ও প্রয়োজনের সময়ে ইস্তিগফার বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিয়মিত ইস্তিগফার সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথের কারণ হতে পারে।
- দুশ্চিন্তার সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
- রিযক আল্লাহর দান—ইস্তিগফার সেই ভরসা বাড়ায়।
- ইস্তিগফার মুখের আমল হলেও এর সঙ্গে অন্তরের ফিরে আসা দরকার।
