১০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬৩-[৪১] - তাওবাহকারীর মর্যাদা
ক্ষমা ও তাওবা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
গুনাহ থেকে তাওবাহকারীর মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩৬৩-[৪১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩৬৩-[৪১]
وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: اَلتَّائِبَ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ تَفَرَّدَ بِهِ النَّهْرَانَىُّ وَهُوَ مَجْهُولٌ. وَفِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ رَوٰى عَنْهُ مَوْقُوفًا قَالَ: النَّدَمُ تَوْبَةٌ والتَّائبُ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গুনাহ হতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। (ইবনু মাজাহ।) আর বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় ইমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ [‘আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি [‘আবদুল্লাহ] বলেছেন, ‘‘অনুশোচনাই হলো তাওবাহ্, আর তাওবাহকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই’’।)[১]
[১] হাসান লিগয়রিহী : ইবনু মাজাহ ৪২৫০, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০২৮১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৫৬১, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪৫, সহীহ আল জামি‘ ৩০০৮, শারহুস্ সুন্নাহ ১৩০৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩৬৩-[৪১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাওবাহ বা গুনাহ থেকে ফিরে আসার বড় মূল্য বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গুনাহ হতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহ নেই। বর্ণনার শেষে আরও উল্লেখ আছে, অনুশোচনাই তাওবাহ। অর্থাৎ শুধু মুখে বলা নয়, অন্তরে ভুলের জন্য কষ্ট পাওয়া এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা তাওবাহর গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই হাদিস মানুষকে হতাশা থেকে ফিরিয়ে আনে। কেউ ভুল করলে তার কাজ হলো গুনাহকে স্বাভাবিক মনে না করা, বরং অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। তবে এখানে তাওবাহকে খেলাধুলা বানানো নয়; বরং সত্যিকারের অনুশোচনা ও ফিরে আসাই মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের পর অনুশোচনা করা তাওবাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- সত্যিকারের তাওবাহ বান্দার জন্য ক্ষমার আশা তৈরি করে।
- ভুলের পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
