১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৭৫-[১৭] - গুনাহ থেকে বাঁচতে সতর্কতা
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাকওয়ার জন্য সন্দেহজনক পথ থেকেও দূরে থাকা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৭৫-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৭৫-[১৭]
وَعَن عطيَّةَ السَّعدِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ المتَّقينَ حَتَّى يدَعَ مَا لَا بَأْسَ بِهِ حَذَرًا لِمَا بِهِ بأسٌ».رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وابنُ مَاجَه
‘আত্বিয়্যাহ্ আস্ সা'দী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোনো মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাক্বী (পরহেজগার) হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে গুনাহের কাজ হতে বেঁচে থাকার জন্য গুনাহহীন কাজও এড়িয়ে না চলে (যাতে গুনাহে নিপতিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে)।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৪৫১, ইবনু মাজাহ ৪২১৫, মুসতাদরাক আল হাকিম ৭৮৯৯, তাহক্বীক রিয়াযুস্ সলিহীন ৬০১, সহীহ আত্ তারগীব ১০৮১। আলবানী (রহঃ) হাদীসটি প্রথমে হাসান বললেও পরবর্তীতে তার নিকট য‘ঈফের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৭৫-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাকওয়ার একটি সূক্ষ্ম শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কোনো বান্দা ততক্ষণ মুত্তাক্বী হতে পারে না, যতক্ষণ সে গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এমন কিছু কাজও ছেড়ে না দেয়, যাতে সরাসরি গুনাহ নেই কিন্তু গুনাহে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এর মানে, তাকওয়া শুধু হারাম কাজ ছেড়ে দেওয়ার নাম নয়; বরং হারামের পথে নিয়ে যেতে পারে এমন দরজা থেকেও সতর্ক থাকা। এটি অতিরঞ্জিত ভয় নয়, বরং আত্মরক্ষার শিক্ষা। একজন মানুষ জানে, কোন পরিবেশ, লেনদেন, সম্পর্ক বা অভ্যাস তাকে ভুলের কাছে নিয়ে যায়। তাই মুমিন নিজের দুর্বলতা বুঝে নিরাপদ দূরত্ব রাখে। এই হাদিস সন্দেহ বর্জন, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং গুনাহ থেকে বাঁচার বাস্তব শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকওয়া মানে হারামের পাশাপাশি হারামের পথ থেকেও সতর্ক থাকা।
- গুনাহে পড়ার আশঙ্কা থাকলে কিছু বৈধ কাজও ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।
- নিজের দুর্বলতা বুঝে নিরাপদ দূরত্ব রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
- পরহেজগারির জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ দরকার।
