১৩/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৪০-[৩] - স্ত্রীর অপছন্দনীয় আচরণেও ভালো দিক দেখা
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত - প্রথম অনুচ্ছেদ
স্ত্রীর ভালো দিক দেখার দাম্পত্য শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৪০-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৪০-[৩]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ». رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোনো মুমিন যেন মুমিনাহ্-কে ঘৃণা না করে (বা তার প্রতি শত্রুতা পোষণ না করে); যদি তার কোনো আচরণে সে অসন্তোষ প্রকাশ করে, তবে অন্য আর এক আচার-ব্যবহারে সন্তুষ্টি লাভ করবে।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৪৬৯, আহমাদ ৮৩৬৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৯২৮, সহীহ আল জামি‘ ৭৭৪১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৪০-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো মুমিন যেন কোনো মুমিনাহকে ঘৃণা না করে। যদি তার কোনো আচরণ অপছন্দ হয়, তবে অন্য আরেক আচরণে সে সন্তুষ্টি পাবে। এই হাদিস দাম্পত্য জীবনের খুব বাস্তব শিক্ষা দেয়। মানুষ পুরোপুরি নিখুঁত নয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও কিছু আচরণ অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু একটি অপছন্দের কারণে পুরো মানুষটিকে ঘৃণা করা ঠিক নয়। বরং তার ভালো দিক, ভালো আচরণ ও ইতিবাচক গুণগুলোও দেখতে হবে। এই শিক্ষা পরিবারে ধৈর্য, ভারসাম্য ও ভালো ধারণা তৈরি করে। স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার, দাম্পত্য সদাচার এবং মুমিন-মুমিনাহর পারস্পরিক সম্মান—এসব বিষয় এই হাদিসে সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একটি অপছন্দের কারণে পুরো মানুষকে ঘৃণা করা উচিত নয়।
- স্ত্রীর ভালো দিক ও ভালো আচরণও দেখতে শেখা দরকার।
- দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য ও ভারসাম্য সম্পর্ককে সুন্দর রাখে।
- মুমিন-মুমিনাহর সম্পর্ক ঘৃণা নয়, সদাচার ও ন্যায়ের ওপর হওয়া উচিত।
