১৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৬৮-[২৩] - ইচ্ছাকৃত মুমিন হত্যার ভয়
কিসাস (প্রতিশোধ) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ইচ্ছাকৃত মুমিন হত্যা ও ক্ষমার ভয়াবহ সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৪৬৮-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৪৬৮-[২৩]
وَعَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلَّا مَنْ مَاتَ مُشْرِكًا أَوْ مَنْ يقتُلُ مُؤمنا مُتَعَمدا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আশা করা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না, যে ব্যক্তি মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, অথবা স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪২৭০, সহীহাহ্ ৫১১, সহীহ আল জামি‘ ৪৫২৪, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৪৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৯৮০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৬৮-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, আশা করা যায় আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন; কিন্তু যে ব্যক্তি মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, অথবা যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা এসেছে। এখানে “আশা করা যায়” কথাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্ষমা আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে হাদিসটি ইচ্ছাকৃত মুমিন হত্যা কত ভয়াবহ, তা খুব স্পষ্ট করে জানায়। কোনো মুমিনকে জেনে-শুনে হত্যা করা শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়; এটি আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহির বিষয়। একই সঙ্গে শিরক অবস্থায় মৃত্যু সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে। তাই ঈমান রক্ষা, মানুষের প্রাণের মর্যাদা এবং অন্যায় রক্তপাত থেকে দূরে থাকা—এই তিনটি শিক্ষা হাদিসের কেন্দ্রে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইচ্ছাকৃত মুমিন হত্যা অত্যন্ত কঠিন গুনাহ হিসেবে এসেছে।
- আল্লাহর ক্ষমার আশা আছে, তবে মানুষকে বড় গুনাহ থেকে ভয় করতে হবে।
- শিরক অবস্থায় মৃত্যু সম্পর্কে হাদিসে কঠিন সতর্কতা এসেছে।
- মুমিনের প্রাণের নিরাপত্তা ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
