১৮/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৩৫-[৫] - তিন শ্রেণীর বিচারকের পরিণাম
প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তিন বিচারক: হক জানা ও ইনসাফের কঠিন শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৩৫-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৩৫-[৫]
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِي النَّارِ فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বিচারক তিন শ্রেণীর হয়। তন্মধ্যে এক প্রকারের (বিচারকদের) জন্য জান্নাত আর দু' প্রকারের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সে বিচারক জান্নাতে যাবেন, যিনি হক চিনলেন এবং তদানুযায়ী ফায়সালা করেন। আর যে বিচারক হক উপলব্ধি করেও বিচার ফায়সালার মধ্যে অন্যায়-অবিচার করে, সে বিচারক জাহান্নামী এবং যে বিচারক অজ্ঞতার সাথে বিচার-ফায়সালা করে, সেও জাহান্নামী।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৫৭৩, তিরমিযী ১৩২২, ইবনু মাজাহ ২৩১৫, ইরওয়া ২৬১৪, সহীহ আল জামি‘ ৪৪৪৬, সহীহ আত্ তারগীব ২১৭২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৩৫-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকদের তিন শ্রেণী বলা হয়েছে। এক শ্রেণীর বিচারকের জন্য জান্নাত, আর দুই শ্রেণীর জন্য জাহান্নামের সতর্কতা। যে বিচারক হক চিনে এবং সেই অনুযায়ী ফায়সালা করে, সে সফল। আর যে হক বুঝেও বিচার ফায়সালায় অন্যায় করে, সে কঠিন বিপদে পড়ে। তৃতীয় হলো যে অজ্ঞতার সাথে মানুষের বিচার করে; তাকেও জাহান্নামের সতর্কতার মধ্যে রাখা হয়েছে। এই হাদিস বিচারকের জন্য জ্ঞান, সততা ও ইনসাফ—তিনটিই দরকার বলে শেখায়। শুধু পদ থাকলেই বিচার নিরাপদ হয় না। হক জানা, হক মানা এবং অন্যায় থেকে বাঁচা জরুরি। যারা পরিবার বা সমাজে সালিশ করেন, তাদের জন্যও এই শিক্ষা প্রযোজ্য—না জেনে ফায়সালা করা বিপজ্জনক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হক জেনে সেই অনুযায়ী বিচার করা মুক্তির পথ।
- হক জেনেও অন্যায় বিচার করা কঠিন অপরাধ।
- অজ্ঞতা নিয়ে মানুষের বিচার করা নিরাপদ নয়।
- বিচারের জন্য জ্ঞান, সততা ও আল্লাহভীতি দরকার।
