১৮/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৪০-[১০] - ন্যায়পরায়ণ বিচারকেরও ভয়
প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ন্যায়পরায়ণ বিচারকেরও কিয়ামতের ভয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৪০-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৪০-[১০]
وَعَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى الْقَاضِي الْعَدْلِ يومُ القيامةِ يَتَمَنَّى أَنَّهُ لَمْ يَقْضِ بَيْنَ اثْنَيْنِ فِي تَمْرَة قطّ». رَوَاهُ أَحْمد
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামত দিবসে ন্যায়পরায়ণ শাসক এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে; তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে যে, একটি খেজুরের ব্যাপারেও যদি সে দুই ব্যক্তির মধ্যে পরস্পর বিবাদের ফয়সালা না করত (কতই না উত্তম হতো)।
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২৪৪৬৪, য‘ঈফাহ্ ১১৪২, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪৮৬৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৩১০। কারণ এর সনদে ‘আমর ইবনুল ‘আলা আস্ সানিয়্যি ও সালিহ বিন সারজ উভয় রাবীকে কেবলমাত্র ইবনু হিব্বান বিশ্বস্ত বলেছেন। বস্তুত তারা উভয়েই মাসতুর্ রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৪০-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস বিচারকের দায়িত্বের ভয়কে খুব গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কিয়ামতের দিনে ন্যায়পরায়ণ শাসক বা বিচারক এমন অবস্থায় আসবে যে, সে আকাঙ্ক্ষা করবে—একটি খেজুরের ব্যাপারেও যদি সে দুই ব্যক্তির মধ্যে ফায়সালা না করত! এখানে তিনি অন্যায় বিচারকের কথা বলছেন না; বরং ন্যায়পরায়ণ বিচারকের ভয় দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষের অধিকার নিয়ে বিচার করা কত ভারী দায়িত্ব। ছোট বিষয়ও বিচারকের জন্য হালকা নয়। হাদিসটি বিচারকের পদকে লোভের জিনিস বানাতে নিষেধ করে এবং সালিশকারীদেরও সতর্ক করে—সত্য না জেনে, পক্ষপাত নিয়ে বা তাড়াহুড়া করে ফায়সালা করা উচিত নয়। ইনসাফ করতে হলে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা মনে রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায়পরায়ণ বিচারকের জন্যও বিচার বড় দায়িত্ব।
- ছোট বিবাদেও ফায়সালা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
- বিচারের পদ মর্যাদার চেয়ে জবাবদিহির বিষয়।
- ইনসাফ করতে আল্লাহর সামনে হিসাবের কথা মনে রাখা দরকার।
