৩/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৮৪-[৯] - মিসওয়াক ধোয়ার আদব ও পারিবারিক শিক্ষা
মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিসওয়াক ধোয়ার আদব: নবী صلى الله عليه وسلم-এর ঘরোয়া শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৮৪-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৮৪-[৯]
وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَبِيُّ ﷺ يَسْتَاكُ فَيُعْطِينِي السِّوَاكَ لِأَغْسِلَه فَأَبْدَأُ بِه فَأَسْتَاكُ ثُمَّ أَغْسِلُه وَأَدْفَعُه إِلَيْهِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মিসওয়াক করতেন। অতঃপর ধুয়ে রাখার জন্য তা আমাকে দিতেন। আমি (ধোয়ার আগে) ঐ মিসওয়াক দিয়ে নিজে মিসওয়াক করতাম। তারপর তা ধুয়ে তাঁকে ((ﷺ)-কে) দিতাম। [১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৫২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৮৪-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মিসওয়াকের সঙ্গে জড়িত একটি ঘরোয়া ঘটনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم মিসওয়াক করতেন, এরপর তা ধুয়ে রাখার জন্য আয়িশা রা.-কে দিতেন। আয়িশা রা. ধোয়ার আগে সেই মিসওয়াক দিয়ে নিজেও মিসওয়াক করতেন, তারপর ধুয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-কে ফিরিয়ে দিতেন। হাদিসটি সংক্ষিপ্ত হলেও এতে কয়েকটি বিষয় বোঝা যায়। প্রথমত, নবী صلى الله عليه وسلم নিয়মিত মিসওয়াক করতেন। দ্বিতীয়ত, ব্যবহারের পর মিসওয়াক ধুয়ে রাখা পরিচ্ছন্নতার অংশ। তৃতীয়ত, পরিবারের ভেতরের আচরণেও ভালোবাসা, আদব ও পরিচ্ছন্নতা ছিল। এখানে কোনো অতিরিক্ত বিধান জুড়ে দেওয়া উচিত নয়; কারণ হাদিসে শুধু ঘটনাটি বলা হয়েছে। তবে মিসওয়াক পরিষ্কার রাখা এবং ব্যবহার শেষে ধোয়ার বিষয়টি সরাসরি বুঝে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিসওয়াক ব্যবহারের পর ধুয়ে রাখা পরিচ্ছন্নতার অংশ।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর ঘরোয়া জীবনেও পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ছিল।
- পরিবারের মধ্যে ছোট কাজেও আদব ও ভালোবাসা প্রকাশ পেতে পারে।
- মিসওয়াক শুধু ব্যবহার নয়, তা পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
