২১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৬৭-[৫] - ভুলে দাঁড়িয়ে পান করলে করণীয়
পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আল্ মুগরিব গ্রন্থকার বলেন : ফাই বলা হয় ঐ সম্পদকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কোনো ভূমি যখন মুসলিমদের অধিকারে চলে যায় তখন এ ভূমিতে বসবাসকারী কাফিরদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করা হয় তাই হলো ফাই। মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন : যুদ্ধ না করেই মুসলিমগণ কাফিরদের নিকট থেকে যে সম্পদ অর্জন করে তাকে ফাই বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশাতে তিনি স্বীয় ইচ্ছা মতো ফাই এর মাল ব্যয় করার অধিকারী ছিলেন। তা থেকে নিজ পরিবারের জন্য ব্যয় করতেন।সেনাবাহিনী প্রস্তুত, মেহমানের মেহমানদারী করা এবং প্রতিনিধি দলের লোকেদের সম্মানার্থে ব্যয় নির্বাহ এ মাল থেকেই করতেন। পরবর্তীতে তা ‘উমার (রাঃ) বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত করে মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। (মির্ক্বাতুল মাফাতীহ)
ভুলে দাঁড়িয়ে পান করলে কী করবে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৬৭-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৬৭-[৫]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَشْرَبَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ قَائِمًا فَمَنْ نَسِيَ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَقِئْ». رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের কেউই যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। যদি কেউ ভুলবশত এরূপ করে, সে যেন বমি করে ফেলে।
[১] সহীহ : মুসলিম (২০২৬)-১১৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৭৭১৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫০৩৭, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৪৬০২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৬৭-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। আর কেউ ভুলে এমন করলে সে যেন বমি করে ফেলে। হাদিসের ভাষা বেশ জোরালো। তাই পানীয় আদবে বসে পান করার গুরুত্ব এখানে পরিষ্কার। তবে একই বিষয়ে অন্য বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর দাঁড়িয়ে যমযম পান করার ঘটনাও এসেছে। তাই ইসলামী স্কলারদের মতে এ ধরনের হাদিসগুলো একসঙ্গে বুঝতে হয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সাধারণভাবে দাঁড়িয়ে পান করার অভ্যাস না করা এবং ভুল হলে বিষয়টিকে হালকা না ভাবা। পানি পান করার সুন্নাহ মেনে চলা দৈনন্দিন জীবনের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাঁড়িয়ে পান করাকে অভ্যাস বানানো উচিত নয়।
- ভুলে হয়ে গেলে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
- পানীয় আদবেও নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- একই বিষয়ের হাদিসগুলো মিলিয়ে বুঝলে ভারসাম্য থাকে।
