২১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৬৯-[৭] - আলী রা.-এর দাঁড়িয়ে পান করার বর্ণনা
পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আল্ মুগরিব গ্রন্থকার বলেন : ফাই বলা হয় ঐ সম্পদকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কোনো ভূমি যখন মুসলিমদের অধিকারে চলে যায় তখন এ ভূমিতে বসবাসকারী কাফিরদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করা হয় তাই হলো ফাই। মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন : যুদ্ধ না করেই মুসলিমগণ কাফিরদের নিকট থেকে যে সম্পদ অর্জন করে তাকে ফাই বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশাতে তিনি স্বীয় ইচ্ছা মতো ফাই এর মাল ব্যয় করার অধিকারী ছিলেন। তা থেকে নিজ পরিবারের জন্য ব্যয় করতেন।সেনাবাহিনী প্রস্তুত, মেহমানের মেহমানদারী করা এবং প্রতিনিধি দলের লোকেদের সম্মানার্থে ব্যয় নির্বাহ এ মাল থেকেই করতেন। পরবর্তীতে তা ‘উমার (রাঃ) বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত করে মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। (মির্ক্বাতুল মাফাতীহ)
আলী রা.-এর দাঁড়িয়ে পানি পান করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৬৯-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৬৯-[৭]
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّهُ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ قَعَدَ فِي حَوَائِجِ النَّاسِ فِي رَحَبَةِ الْكُوفَةِ حَتَّى حَضَرَتْ صَلَاةُ الْعَصْرِ ثُمَّ أُتِيَ بِمَاءٍ فَشَرِبَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَذَكَرَ رَأسه وَرجلَيْهِ ثمَّ قَامَ فَشرب فَصله وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ أُنَاسًا يَكْرَهُونَ الشُّرْبَ قَائِمًا وَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর জনগণের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ সমাধানের জন্য কূফার (মসজিদের) আঙ্গিনায় বসলেন। এমনকি ‘আস্ সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তারপর পানি আনা হলো। তিনি তার কিছুটা পান করলেন এবং নিজের হস্তদ্বয় ও মুখ ধুলেন। বর্ণনাকারী তাঁর মাথা ও পদদ্বয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন (অর্থাৎ- ওজু করলেন)। অতঃপর উঠে দাঁড়ালেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পাত্রের অবশিষ্ট পানি পান করলেন। পরে বললেন, লোকেরা দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি যেরূপ করেছি, নবী (ﷺ)-ও অনুরূপ করেছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৬১৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩৫৭, শু‘আবুল ঈমান ৫৯৮২, মুসনাদে আহমাদ ৯৭০, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৩০৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৬৯-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী রা.-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি যুহরের সালাতের পর মানুষের কাজের জন্য কূফার আঙ্গিনায় বসেছিলেন। আসরের সময় পানি আনা হলে তিনি পান করলেন, মুখ ও হাত ধুলেন, বর্ণনাকারী মাথা ও পায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। পরে তিনি দাঁড়িয়ে পাত্রের বাকি পানি পান করলেন এবং বললেন, কিছু লোক দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে অপছন্দ করে, অথচ নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর মতোই করেছেন। এই বর্ণনা দাঁড়িয়ে পান করার আলোচনায় একটি ভারসাম্য দেয়। একদিকে নিষেধের হাদিস আছে, অন্যদিকে এমন আমলের বর্ণনাও আছে। তাই বিষয়টি বুঝতে সব বর্ণনা একসঙ্গে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলী রা. দাঁড়িয়ে পান করার পক্ষে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল উল্লেখ করেছেন।
- একই বিষয়ের বিভিন্ন হাদিস মিলিয়ে বোঝা জরুরি।
- মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল তুলে ধরতেন।
- পানীয় আদবের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বোঝাপড়া দরকার।
