৩/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩৬-[৭] - মায়মূনার বর্ণনায় গোসল
গোসলের বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘আল্লামা কুসত্বুলানী (রহঃ)-এর ভাষ্য মতেঃغَيْنٌবর্ণে ফাতাহ যোগেغَسْلٌশব্দটি মাসদার। এর অর্থ কোন কিছু ধৌত করা এবং গোসল করা।غَيْنٌবর্ণে কাসরাহ্ যোগেغِسْلٌশব্দের অর্থ বরইপাতা, খিত্বমী ঘাস ইত্যাদির নাম যেসব বস্ত্তর দ্বারা ধৌত করা হয়। আরغَيْنٌবর্ণে যম্মাযোগেغُسْلٌশব্দের অর্থ পানি যা দ্বারা গোসল করা হয়। প্রথম দু’ক্ষেত্রেغَسْلٌএর অর্থ কোন কিছুর উপর পানি ঢেলে দেয়া। তবে গোসলে শরীর ঘষে পরিষ্কার করা বা ঘর্ষণ করার বিধান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।মালিকীগণ গোসলে ঘর্ষণের শর্তারোপ করেছে। তাদের মতে যাতে ঘর্ষণ নেই তাকে গোসল বলা হবে না বরং তা হলো পানি ঢেলে দেয়া বা বাহিয়ে দেয়া। কিছু হানাফীদের মতে গোসলের ক্ষেত্রে ঘর্ষণটি আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্তব্য। ভাষ্যকার বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর উক্তি ’‘তোমরা চুল ধৌত করো এবং চামড়া পরিষ্কার করো’’ দ্বারা ঘর্ষণের আবশ্যকতার বিষয়টি অনুমিত হয়। কারণ ঘর্ষণ ব্যতীত শুধু পানি ঢালার মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার হয় না। অধিকন্তু গোসলের বিধানের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ একটি উপযোগী বিষয়। কারণ গোসল হলো প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মানের উদ্দেশে বাহ্যিক অঙ্গসমূহের অবস্থা সুন্দর করা যা ঘর্ষণ ব্যতীত পূর্ণতা লাভ করে না।
মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় ফরজ গোসল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৩৬-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৩৬-[৭]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ ﷺ غُسْلًا فَسَتَرْتُه بِثَوْبٍ وَصَبَّ عَلى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ صَبَّ بِيَمِينِه عَلى شِمَالِه فَغَسَلَ فَرْجَه فَضَرَبَ بِيَدِهِ الْأَرْضَ فَمَسَحَ ثُمَّ غَسَلَهَا فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَه وَذِرَاعَيْهِ ثُمَّ صَبَّ عَلى رَأْسِه وَأَفَاضَ عَلى جَسَدِه ثُمَّ تَنَحّى فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ فَنَاوَلْتُه ثَوْبًا فَلَمْ يَأْخُذْهُ فَانْطَلَقَ وَهُوَ يَنْفُضُ يَدَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَلَفْظُهُ لِلْبُخَارِىِّ
মায়মূনাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আমার খালা উম্মুল মু’মিনীন) মায়মূনাহ্ (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী (ﷺ)-এর গোসলের জন্য পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। প্রথমে তিনি দুই হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং কব্জি পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে কিছু পানি নিয়ে তা দিয়ে লজ্জাস্থান ধুলেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষে তা মুছে নিলেন। তারপর নিয়ম মত হাত ধুলেন। এরপর মাথার উপর পানি ঢাললেন। সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ভিজালেন। তারপর নিজ স্থান হতে একটু সরে গিয়ে পা ধুলেন। আমি (শরীরের পানি মুছে ফেলার জন্য) তাঁকে কাপড় দিলাম। কিন্তু তিনি তা নিলেন না, দুই হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ২৭৬, মুসলিম ৩১৭; শব্দবিন্যাস বুখারীর।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩৬-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফরজ গোসলের আরেকটি বিস্তারিত পদ্ধতি এসেছে। মায়মূনাহ্ (রাঃ) পানি রাখেন এবং পর্দা করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে হাত ধুয়ে নেন, ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢেলে লজ্জাস্থান ধোন, তারপর হাত মাটিতে ঘষে মুছে আবার ধুয়ে নেন। এরপর কুলি করেন, নাকে পানি নেন, মুখ ও বাহু ধোন, মাথায় পানি ঢালেন, পুরো শরীরে পানি দেন এবং পরে স্থান বদলে পা ধোন। শেষে তাঁকে কাপড় দেওয়া হলে তিনি তা নেননি, বরং হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে যান। এই হাদিসে গোসলের ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ গোসলে শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ধাপে ধাপে পরিষ্কার করার বর্ণনা আছে।
- গোসলের সময় পর্দা ও শালীনতার বিষয় দেখা যায়।
- শেষে পা ধোয়া ও হাত ঝাড়ার ঘটনাও বর্ণনায় এসেছে।
