২৬/৪. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৯৮-[৪] - শক্তিশালী মুমিন ও তাকদীর

তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ

শক্তিশালী মুমিন: চেষ্টা, দোয়া ও তাকদীর

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২৯৮-[৪]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ واستعن بِاللَّه ولاتعجز وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا وَلَكِنْ قُلْ قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عمل الشَّيْطَان» رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (34 / 2664)، (6774) ۔ (صَحِيح)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : শক্তিশালী মুমিন দুর্বল ঈমানদার হতে অধিক উত্তম ও আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তবে প্রত্যেকের মাঝেই কল্যাণ রয়েছে। (কেননা কল্যাণের মূলই হলো ঈমান; আর তা কমবেশি উভয় প্রকারের মুমিনের মধ্যে মওজুদ আছে)। আর (দ্বীনি) যে কাজে তোমার উপকার হবে, তার প্রতি আগ্রহ রাখো এবং আল্লাহ তা'আলার সাহায্য কামনা করো (কিন্তু তা অর্জনে) দুর্বলতা প্রকাশ করো না।যদি তোমার কোন কাজে (চাই তা দ্বীন সম্পর্কীয় হোক বা দুনিয়াবি ব্যাপারে হোক) কিছু ক্ষতি সাধিত হয় তখন তুমি এভাবে বলো না- যদি আমি কাজটি এভাবে এভাবে করতাম তাহলে আমার এই এই ভালো হত।” বরং বলো, আল্লাহ এটাই ভাগ্যে রেখেছিলেন, আর তিনি যা চান তাই করেন। (لَوْ) তথা “যদি” শব্দটি শয়তানের কাজের পথকে খুলে দেয়।

সহীহ: মুসলিম ৩৪-(২৬৬৪), ইবনু মাজাহ ৭৯, সহীহুল জামি ৬৬৫০, মুসনাদুল হুমায়দী ১১১৪, মুসনাদে আহমাদ ৮৭৭৭, আবূ ইয়া'লা ৬২৫১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৭২২, শুআবূল ঈমান ১৯৪, আস সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১০৪৫৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ২০৬৬৮।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৯৮-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই সহীহ হাদিসে বলা হয়েছে, শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়; তবে প্রত্যেক মুমিনের মধ্যেই কল্যাণ আছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব বাস্তব নির্দেশনা দিয়েছেন—যে কাজে উপকার আছে, তার প্রতি আগ্রহী হও; আল্লাহর সাহায্য চাও; দুর্বলতা দেখিও না। কোনো ক্ষতি হলে “যদি আমি এমন করতাম” বলে আফসোসে ডুবে না থেকে বলতে বলা হয়েছে, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা-ই হয়েছে, তিনি যা চান তাই করেন। এখানে চেষ্টা ও তাকদীরকে একসাথে শেখানো হয়েছে। মুমিন কাজ করবে, আল্লাহর সাহায্য চাইবে, তারপর ফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবে। “যদি” শব্দে ডুবে থাকা শয়তানের কাজের দরজা খুলতে পারে—এ সতর্কতাও এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুমিনের উচিত উপকারী কাজে আগ্রহী হওয়া।
  • চেষ্টার সাথে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হয়।
  • ক্ষতির পর অতিরিক্ত আফসোসে ডুবে থাকা ঠিক নয়।
  • তাকদীর মানা মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন