২৮/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৫৯-[১১] - কালিমার কার্ড ও আমলের ওজন
হিসাব-নিকাশ, প্রতিশোধ গ্রহণ ও মিজানের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মীযানে কালিমার কার্ডের ভার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৫৯-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৫৯-[১১]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ سيخلِّصُ رجلا من أُمّتي على رُؤُوس الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ سِجِلًّا كُلُّ سِجِلٍّ مِثْلَ مَدِّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ: أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا؟ أَظَلَمَكَ كَتَبَتِي الحافظون؟ فَيَقُول: لَا يارب فَيَقُول: أَفَلَك عذر؟ قَالَ لَا يارب فَيَقُولُ بَلَى. إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةً وَإِنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فَتُخْرَجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ احْضُرْ وَزْنَكَ. فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلَّاتِ؟ فَيَقُولُ: إِنَّكَ لَا تُظْلَمُ قَالَ: فَتُوضَعُ السِّجِلَّاتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلَّاتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ فَلَا يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ الله شَيْء.رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه اسنادہ صحیح، رواہ الترمذی (2639 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (4300) ۔ (صَحِيح)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কিয়ামতের দিন এমন এক লোককে (মুক্তি দেয়া হবে এভাবে যে, তাকে) জনসম্মুখে উপস্থিত করা হবে যার আমলনামা খোলা হবে নিরানব্বই ভলিয়মে এবং প্রতিটি ভলিয়ম বিস্তীর্ণ হবে দৃষ্টির সীমা অবধি। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রশ্ন করবেন, আচ্ছা বল দেখি, তুমি এর কোন একটিকে অস্বীকার করতে পারবে? অথবা আমার লেখক মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) কি তোমার প্রতি অবিচার করেছে? সে বলবে না; হে আমার প্রভু! আল্লাহ তা'আলা প্রশ্ন করবেন, তবে কি তোমার পক্ষ হতে কোন ওযর পেশ করার আছে? সে বলবে, না; হে আমার রব! তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হ্যাঁ, তোমার একটি পুণ্য আমার নিকট পুণ্য আছে। তুমি নিশ্চিত জেনে রাখ, আজ তোমার প্রতি কোন যুগ্ম বা অবিচার করা হবে না।এরপর এক টুকরা কাগজ বের করা হবে, যাতে রয়েছে- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল”। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, তোমার আমলের ওযন দেখার জন্য উপস্থিত হও। তখন সে বলবে, হে প্রভু! ঐ সমস্ত বিরাট বিরাট রেজিস্ট্রির মোকাবিলায় এই এক টুকরা কাগজের মূল্যই বা কি আছে? তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমার ওপর কোন অবিচার করা হবে না।তিনি (ﷺ) বলেন, অতঃপর ঐ সকল রেজিস্ট্রিগুলো পাল্লার এক পালিতে এবং এ কাগজের টুকরাখানি আরেক পালিতে রাখা হবে। তখন দফতরগুলোর পালি হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং কাগজের টুকরার পালি ভারী হয়ে নিচের দিকে ঝুঁকে থাকবে। মোটকথা, আল্লাহর নামের সাথে অন্য কোন জিনিস ওযনী হতে পারবে না।
সহীহ: তিরমিযী ২৬৩৯, ইবনু মাজাহ ৪৩০০, সহীহুল জামি ১৭৭৬, সিলসিলাতুস সহীহাহ ১৩৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৫, শুআবূল ঈমান ২৮৩, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৪৯০, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৪৭২৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৫৯-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের মীযান ও তাওহীদের মর্যাদার এক গভীর বর্ণনা এসেছে। এক ব্যক্তির সামনে নিরানব্বইটি বিশাল দফতর খুলে দেওয়া হবে, প্রতিটি দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, সে কি এগুলোর কোনোটি অস্বীকার করতে পারে বা ফেরেশতারা কি তার প্রতি অবিচার করেছে। সে অস্বীকার করবে না। এরপর এক ছোট কাগজ বের করা হবে, যাতে শাহাদাতের কালিমা লেখা থাকবে। দফতরগুলো এক পাল্লায় আর কালিমার কার্ড অন্য পাল্লায় রাখা হলে কার্ডটি ভারী হয়ে যাবে। এখানে তাওহীদ, মীযান, আল্লাহর ন্যায়বিচার এবং কালিমার মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই শিক্ষা গুনাহকে হালকা ভাবার জন্য নয়; বরং তাওহীদের সত্য মূল্য বোঝার জন্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদের কালিমার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বড়।
- কিয়ামতের দিন কারও প্রতি অবিচার করা হবে না।
- মানুষের আমল মীযানে ওজন করা হবে।
- গুনাহকে হালকা না ভেবে কালিমার দাবি অনুযায়ী জীবন গড়া দরকার।
