২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬০৯-[৪৪] - কিয়ামতের পুলসিরাত ও আমলের ফল
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
পুলসিরাত পার হওয়ার সময় আমলের প্রভাব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৬০৯-[৪৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৬০৯-[৪৪]
وَعَن حذيفةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَجْمَعُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى النَّاسَ فَيَقُومُ الْمُؤْمِنُونَ حَتَّى تُزْلَفَ لَهُمُ الْجَنَّةُ فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ: يَا أَبَانَا اسْتَفْتِحْ لَنَا الْجَنَّةَ.فَيَقُولُ: وَهَلْ أَخْرَجَكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلَّا خَطِيئَةُ أَبِيكُمْ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ اذْهَبُوا إِلَى ابْنِي إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ اللَّهِ قَالَ: فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ: لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ إِنَّمَا كُنْتُ خَلِيلًا مِنْ وَرَاءَ وَرَاءَ اعْمَدُوا إِلَى مُوسَى الَّذِي كَلَّمَهُ اللَّهُ تَكْلِيمًا فَيَأْتُونَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام فَيَقُولُ: لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ اذْهَبُوا إِلَى عِيسَى كَلِمَةِ اللَّهِ وَرُوحِهِ فَيَقُولُ عِيسَى: لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ فَيَأْتُونَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُومُ فَيُؤْذَنُ لَهُ وَتُرْسَلُ الْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ فَيَقُومَانِ جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ يَمِينًا وَشِمَالًا فَيَمُرُّ أَوَّلُكُمْ كَالْبَرْقِ.قَالَ: قُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَيُّ شَيْءٍ كَمَرِّ الْبَرْقِ؟ قَالَ: أَلَمْ تَرَوْا إِلَى الْبَرْقِ كَيْفَ يَمُرُّ وَيَرْجِعُ فِي طَرْفَةِ عَيْنٍ. ثُمَّ كَمَرِّ الرِّيحِ ثُمَّ كَمَرِّ الطَّيْرِ وَشَدِّ الرِّجَالِ تَجْرِي بِهِمْ أَعْمَالُهُمْ وَنَبِيُّكُمْ قَائِمٌ عَلَى الصِّرَاطِ يَقُولُ: يَا رَبِّ سَلِّمْ سَلِّمْ. حَتَّى تَعْجِزَ أَعْمَالُ الْعِبَادِ حَتَّى يَجِيءَ الرَّجُلُ فَلَا يَسْتَطِيعُ السَّيْرَ إِلَّا زَحْفًا. وَقَالَ: «وَفِي حَافَتَيِ الصِّرَاطِ كَلَالِيبُ مُعَلَّقَةٌ مَأْمُورَةٌ تَأْخُذُ مَنْ أُمِرَتْ بِهِ فَمَخْدُوشٌ نَاجٍ وَمُكَرْدَسٌ فِي النَّارِ» . وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ إِنَّ قَعْرَ جَهَنَّمَ لَسَبْعِينَ خَرِيفًا.رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (329 / 195)، (482) ۔ (صَحِيح)
হুযায়ফাহ্ ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। অতঃপর মুমিনগণ এক স্থানে দাঁড়াবেন, সবশেষে জান্নাতকে তাদের কাছাকাছি করা হবে। এরপর তারা আদাম (আঃ) -এর নিকট এসে বলবে, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য জান্নাত খুলে দিন। তিনি বলবেন, তোমাদের পিতার অপরাধই তো তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে। অতএব আমি এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা আমার পুত্র আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও।তিনি বলেন, তখন ইবরাহীম (আঃ) বলবেন, এ কাজের যোগ্য আমি নই। আমি আল্লাহর বন্ধু ছিলাম বটে, কিন্তু পশ্চাতে পশ্চাতে (কখনো আল্লাহর সম্মুখীন হওয়ার সুযোগ হয়নি,) বরং তোমরা মূসা (আঃ)-এর দারস্ত হও। যার সাথে আল্লাহ তা'আলা সরাসরি কথা বলেছেন। অতএব তারা মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই। তোমরা ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর কালিমাহ্ এবং তাঁর রূহ। তখন ‘ঈসা (আঃ) বলবেন, আমি যোগ্য নই।সবশেষে তারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নিকট আসবে। তখন তিনি ('আশের ডানপার্শ্বে) দাঁড়াবেন। (শাফা'আতের জন্য) তাঁকে অনুমতি দেয়া হবে। অতঃপর আমানাত ও রেহেমকে (আত্মীয়তার সম্পর্কে) পাঠানো হবে, তখন উভয়টি (ইনসাফের প্রার্থী হয়ে) পুলসিরাতের ডানে ও বামে দুই পার্শ্বে দাঁড়িয়ে যাবে। তার উপর দিয়ে এবার লোকেরা অতিক্রম করতে থাকবে। তোমাদের প্রথম দল বিদ্যুতের মতো চলে যাবে।আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার প্রতি কুরবান, ‘বিদ্যুতের মতো চলে যাবে' এর অর্থ কী? তিনি বলবেন, তোমরা কি দেখতে পাও না, বিদ্যুতের রশ্মি কিরূপে দ্রুত গতিতে চলে যায় এবং চোখের পলকেই পুনরায় ফিরে আসে? তারপরের দল বাতাসের মতো এবং পুরুষদের দৌড়ের মতো 'আমাল তাদেরকে (সম্মুখের দিকে) নিয়ে যাবে। আর তোমাদের নবী পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে বলতে থাকবেন, ‘ইয়া- রববি! সাল্লিম সাল্লিম' (অর্থাৎ হে আমার রব। নিরাপদে রাখ, নিরাপদে রাখ) পরিশেষে কিছুসংখ্যক বান্দার ‘আমাল এতই কম হবে যে, তাদের পুলসিরাত অতিক্রম করার সাধ্য থাকবে না। এমনকি সে সময় এক লোক হামাগুড়ি দিতে দিতে অতিক্রম করবে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পুলসিরাতের উভয় কিনারায় আংটা ঝুলন্ত থাকবে। যাকে পাকড়াও করার নির্দেশ থাকবে উক্ত আংটা তাকে পাকড়াও করবে। ফলে কেউ কেউ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মুক্তি পাবে আবার কোন কোন ব্যক্তিকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। শপথ ঐ সত্তার! যাঁর হাতে আবূ হুরায়রার প্রাণ! জাহান্নামের গভীরতা সত্তর বছর দূরত্বের সমান।
সহীহ: মুসলিম ৩২৯-(১৯৫), সহীহুল জামি' ৮০২৭, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩৬৪২, মুসনাদে বাযযার ২৮৪০, আবূ ইয়া'লা ৬২১৬, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮৭৪৯।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬০৯-[৪৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কিয়ামতের দিনের পুলসিরাতের ভয়াবহতা খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। মানুষ নবীদের কাছে যাবে, শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসবে এবং তাঁকে অনুমতি দেওয়া হবে। আমানত ও রহেম পুলসিরাতের দুই পাশে দাঁড়াবে। এরপর মানুষ আমল অনুযায়ী অতিক্রম করবে। কেউ বিদ্যুতের মতো দ্রুত যাবে, কেউ বাতাসের মতো, কেউ পাখির মতো, কেউ দৌড়ের মতো। আবার কারও আমল এত কম হবে যে সে হামাগুড়ি দিয়ে যাবে। পুলসিরাতের দুই পাশে আংটা থাকবে, যাকে ধরার নির্দেশ থাকবে তাকে ধরবে। কেউ ক্ষতবিক্ষত হয়ে বেঁচে যাবে, কেউ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এই হাদিস আমল, দায়িত্ব ও আত্মীয়তার হক নিয়ে গভীরভাবে ভাবায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমল কিয়ামতের পথে মানুষের অবস্থা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
- অমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক অবহেলা করার বিষয় নয়।
- পুলসিরাতের দৃশ্য মানুষকে আখিরাতের প্রস্তুতির কথা মনে করায়।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর ‘সাল্লিম সাল্লিম’ দোয়া উম্মতের জন্য মমতার পরিচয়।
