১/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২-[১৪] - নিফাক ও ঈমানের সীমারেখা
কবিরা গুনাহ ও মুনাফিকের নিদর্শন - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নিফাক, কুফর ও ঈমান: সতর্কতার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬২-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২-[১৪]
وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ اِنَّمَا النِّفَاقُ كَانَ عَلى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِِ ﷺ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَإِنَّمَا هُوَ الْكُفْرُ أَوِ الإِيْمَانُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নিফাকের হুকুম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগেই ছিল। বর্তমানে হয় তা কুফ্রী, না হয় ঈমান। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭১১৪, নাসায়ী ৩৪৩৩, সহীহ আল জামি‘ ১৭৩২, ইরওয়া ২০৬২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হুযাইফা (রাঃ) বলেন, নিফাকের হুকুম রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুগেই ছিল। এরপর তিনি বলেন, বর্তমানে বিষয়টি কুফর অথবা ঈমান। হাদিসের ভাষা খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু বার্তা গভীর। এখানে মূল কথা হলো, একজন মানুষকে নিজের বিশ্বাস ও কাজের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ঈমান শুধু মুখের কথা নয়; অন্তরের সত্যতা ও আনুগত্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। “নিফাকের হাদিস” বা “নিফাক ও ঈমান” বিষয়টি যারা খোঁজেন, তাদের জন্য এই হাদিসটি মনে করিয়ে দেয় যে দ্বীনের বিষয়ে অস্পষ্ট বা দ্বিমুখী অবস্থাকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। তবে এই বর্ণনা থেকে কাউকে নির্দিষ্টভাবে কাফির বা মুনাফিক বলা যাবে না; কারণ হাদিসে মূলত সতর্কতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমান ও কুফরের বিষয়কে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- নিফাকের আলোচনা মানুষকে নিজের আমল ও বিশ্বাস যাচাই করতে শেখায়।
- অন্যকে দোষারোপের আগে নিজের ঈমান ঠিক রাখা বেশি জরুরি।
- সংক্ষিপ্ত হাদিসও বড় সতর্কবার্তা বহন করতে পারে।
