৪/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬১-[৮] - আযানের পর দোয়া ও ক্ষমার আশা
আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনের উত্তর দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
আযানের পর দোয়া: ঈমানের সাক্ষ্য ও ক্ষমা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬১-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬১-[৮]
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُولُه رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غُفِرَ لَه ذَنْبُه.رَوَاهُ مُسْلِمٌ
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে এই দোয়া পড়বে, “আশ্হাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শরীকা লাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ, রাযিতু বিল্লা-হি রব্বাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসূলান ওয়াবিল ইসলা-মি দীনা” (অর্থাৎ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আমি আল্লাহকে রব, দ্বীন হিসেবে ইসলাম, রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ (ﷺ)-কে জানি ও মানি) এর উপর আমি সন্তুষ্ট, তাহলে তার সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮৬, আবূ দাঊদ ৫২৫, নাসায়ী ৬৭৯, তিরমিযী ২১০, ইবনু মাজাহ্ ৭২১, আহমাদ ১৫৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৯৩, সহীহ আল জামি‘ ৬৪২২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬১-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আযান শুনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়ার শিক্ষা এসেছে। দোয়াটির মূল কথা হলো আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ হিসেবে মানা, তাঁর কোনো শরীক নেই—এ কথা সাক্ষ্য দেওয়া, এবং মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-কে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হিসেবে স্বীকার করা। এরপর বান্দা বলে যে সে আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-কে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। এটি শুধু মুখের কথা নয়; বরং ঈমান, তাওহীদ এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আযান শুনে এই দোয়া পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। তাই আযানের জবাব ও আযানের পর দোয়া মুমিনের জন্য সুন্দর আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান শুনে আল্লাহর একত্ব ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- ইসলামকে দ্বীন হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা ঈমানের বড় প্রকাশ।
- আযানের সময় মুখ ও অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত রাখা উচিত।
- এই দোয়ার মাধ্যমে ক্ষমা লাভের সুসংবাদ এসেছে।
