৪/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৮৬-[৭] - সালাতে শান্তভাবে আসার শিক্ষা
বিলম্বে আজান - প্রথম অনুচ্ছেদ
সালাতে দৌড়ে নয়, শান্তভাবে আসুন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৮৬-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৮৬-[৭]
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمْ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوْا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.- وَفِىْ رِوَايَةٍ لِّمُسْلِمٍ فَاِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا كَانَ يَعْمِدُ اِلَى الصَّلَاةِ فَهُوَ فِى الصَّلَاةِ وَهذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلُ الثَّانِيْ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : সালাতের ইক্বামাত দেয়া শুরু হলে তোমরা দৌড়িয়ে আসবে না, বরং শান্তভাবে হেঁটে আসবে। তারপর যা ইমামের সাথে পাবে তাই পড়বে। আর যা ছুটে যাবে তা পরে পড়ে নিবে। [১] তবে মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “তোমাদের কেউ সালাতের জন্য বের হলে তখন সে সালাতেই থাকে”। [২]
[১] সহীহ : বুখারী ৯০৮, মুসলিম ৬০২, বুখারী ৬৩৬, ৯০৮, আবূ দাঊদ ৫৭২, তিরমিযী ৩২৭, ইবনু মাজাহ্ ৭৭৫, দারেমী ১৩১৯।[২] সহীহ : মুসলিম ৬০২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৮৬-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামা‘আতের সালাতে যাওয়ার সুন্দর আদব শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সালাতের ইকামাত শুরু হলে দৌড়ে আসবে না; বরং শান্তভাবে হেঁটে আসবে। এরপর ইমামের সাথে যতটুকু পাওয়া যায় তা পড়বে, আর যা ছুটে যায় তা পরে পূর্ণ করবে। মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, কেউ সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলে সে সালাতের মধ্যেই থাকে। তাই সালাতে দেরি হয়ে গেলে অস্থির হয়ে দৌড়ানো নয়; শান্ত ভাব বজায় রাখা দরকার। এখানে সালাতে শান্তভাবে আসা, ইকামাতের পর আচরণ এবং মিস হওয়া রাক‘আত পূরণ করার শিক্ষা এসেছে। হাদিসটি মনে করিয়ে দেয়, সালাত শুধু রাক‘আত নয়; সালাতের দিকে যাওয়ার পথেও আদব আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইকামাত হয়ে গেলেও সালাতে দৌড়ে যাওয়া উচিত নয়।
- সালাতের দিকে যাওয়ার সময় শান্তভাব বজায় রাখতে হবে।
- ইমামের সাথে যা পাওয়া যায় তা পড়ে, বাকি অংশ পরে পূর্ণ করতে হবে।
- সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়াও ইবাদতের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত।
