৪/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭১৮-[২৯] - মসজিদের অতিরিক্ত চাকচিক্য থেকে সতর্কতা
মসজিদ ও সালাতের স্থান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মসজিদের অতিরিক্ত সাজসজ্জা নিয়ে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৭১৮-[২৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৭১৮-[২৯]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا أُمِرْتُ بِتَشْيِيدِ الْمَسَاجِدِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارى. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাকে মসজিদ বানিয়ে তা চাকচিক্যময় করে রাখার হুকুম দেয়া হয়নি। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় যেভাবে ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানরা তাদের ইবাদতখানাকে (স্বর্ণ-রূপা দিয়ে) চাকচিক্যময় করে রাখত তোমরাও একইভাবে তোমাদের মসজিদ-এর শ্রীবৃদ্ধি ও সৌন্দর্য বর্ধন করবে। [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৪৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭১৮-[২৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আমাকে মসজিদ বানিয়ে তা চাকচিক্যময় করে রাখার হুকুম দেওয়া হয়নি। এরপর ইবনু আব্বাস রা. বলেন, দুঃখের বিষয় তোমরা মসজিদকে এমনভাবে সাজাবে, যেমন ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানরা তাদের ইবাদতখানা সাজাত। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মসজিদের আসল কাজ ইবাদত। মসজিদ সুন্দর ও পরিষ্কার হওয়া ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত চাকচিক্য, গর্ব বা দেখানোর মনোভাব ইবাদতের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে—চাকচিক্যময় করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাই মসজিদ নির্মাণে ভারসাম্য দরকার: পরিচ্ছন্নতা থাকবে, ইবাদতের সুবিধা থাকবে, কিন্তু অযথা সাজসজ্জা ও বাহাদুরি যেন মূল উদ্দেশ্য না হয়ে যায়। মসজিদের সৌন্দর্য আসলে তার সালাত, যিকর, তিলাওয়াত ও আল্লাহর স্মরণে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদকে অতিরিক্ত চাকচিক্যময় করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
- মসজিদের আসল উদ্দেশ্য ইবাদত, দেখানো নয়।
- পরিচ্ছন্নতা ও সুবিধা দরকার, কিন্তু বাহাদুরি নয়।
- ইবনু আব্বাস রা. আগের জাতির মতো সাজসজ্জা নিয়ে সতর্ক করেছেন।
