৪/১২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮২৩-[২] - উম্মুল কুরআন ও বান্দার দোয়া

সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ

সূরা ফাতিহা: আল্লাহ ও বান্দার কথোপকথন

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮২৩-[২]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ مَنْ صَلّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ ثَلَاثًا غَيْرُ تَمَامٍ فَقِيلَ لِأَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّا نَكُونُ وَرَاءَ الْإِمَامِ فَقَالَ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ قَالَ اللّهُ تَعَالى قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَفَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ ﴿الْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ﴾ قَالَ اللّهُ تَعَالى حَمِدَنِي عَبْدِي وَإِذَا قَالَ ﴿الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ﴾ قَالَ اللّهُ تَعَالى أَثْنى عَلَيَّ عَبْدِي وَإِذَا قَالَ ﴿مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ﴾ قَالَ مَجَّدَنِي عَبْدِي وَاِذَا قَالَ ﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ﴾ قَالَ هذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ ﴿اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ﴾ قَالَ هَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল কিন্তু এতে উম্মুল কোরআন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা পাঠ করল না তাতে তার সালাত “অসম্পূর্ণ” রয়ে গেল। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। এ কথা শুনে কেউ আবূ হুরায়রা‌ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যখন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করব তখনও কি তা পাঠ করব? উত্তরে তিনি বললেন, হাঁ তখনও তা পাঠ করবে নিজের মনে মনে। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ বলেছেন, আমি ‘সালাত’ অর্থাৎ, সূরা ফাতিহাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করেছি, (এভাবে যে, হামদ ও সানা আমার জন্য আর দোয়া বান্দার জন্য)। আর বান্দা যা চায় তা তাকে দেয়া হয়।বান্দা বলে, সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি সমস্ত জাহানের প্রতিপালক। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন বান্দা বলে, আল্লাহ বড় মেহেরবান ও পরম দয়ালু, আল্লাহ তখন বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করল। বান্দা যখন বলে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের হাকীম, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমাকে সম্মান প্রদর্শন করল।বান্দা যখন বলে, (হে আল্লাহ!) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য কামনা করি, তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার (ইবাদত আল্লাহর জন্য আর দোয়া বান্দার জন্য)। আর আমার বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে। বান্দা যখন বলে, (হে আল্লাহ)! তুমি আমাদেরকে সহজ ও সরল পথে পরিচালিত কর। সে সমস্ত লোকের পথে, যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছ। তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এটা আমার বান্দার জন্য, আর বান্দা যা চাইবে, সে তাই পাবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৯৫, তিরমিযী ২৯৫৩, ইবনু মাজাহ্ ৮৩৮, আহমাদ ৭২৯১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৭৬।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮২৩-[২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূরা ফাতিহার মর্যাদা খুব সুন্দরভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতে উম্মুল কুরআন, অর্থাৎ সূরা ফাতিহা পাঠ করেনি, তার সালাত অসম্পূর্ণ। এরপর হাদিসে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফাতিহার প্রতিটি অংশের উত্তর বর্ণিত হয়েছে। বান্দা যখন আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ বলেন বান্দা আমার প্রশংসা করল। বান্দা যখন তাঁর রহমত, বিচার দিনের মালিকানা এবং ইবাদত ও সাহায্যের কথা বলে, তখন আল্লাহ তা উল্লেখ করেন। শেষে বান্দা সরল পথের দোয়া করে, আর আল্লাহ বলেন এটি বান্দার জন্য। তাই সূরা ফাতিহা শুধু একটি সূরা নয়; এটি সালাতের দোয়া, প্রশংসা ও আল্লাহর সঙ্গে বান্দার ঘনিষ্ঠ আবেদন। তাই ফাতিহা পড়ার সময় শুধু মুখে শব্দ উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়; বান্দা যেন প্রতিটি বাক্যের অর্থ ও নিজের প্রয়োজন অনুভব করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত অসম্পূর্ণ থাকার কথা এসেছে।
  • ফাতিহার আয়াতগুলোতে প্রশংসা, ইবাদত ও হিদায়াতের দোয়া একসাথে আছে।
  • ইমামের পিছনে থাকলেও আবূ হুরায়রা (রাঃ) মনে মনে পড়ার কথা বলেছেন।
  • বান্দা সালাতে আল্লাহর কাছে সরল পথ চায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন