৪/১৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৬৩-[৫] - সালাত শেষে উচ্চস্বরে যিকির
সালাতের পর যিকর-আজকার - প্রথম অনুচ্ছেদ
সালাত শেষে উচ্চস্বরে তাওহীদের যিকির
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৬৩-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৬৩-[৫]
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ إِذَا سَلَّمَ مِنْ صَلَاتِه يَقُولُ بِصَوْتِهِ الْأَعْلى: لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّهِ، لَا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَو كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সালাতের সালাম ফিরানোর পর উচ্চকণ্ঠে বলতেন, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহূ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুওয়া আলা-কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর, লা-হাওলা ওয়ালা-ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা-না’বুদু ইল্লা- ঈয়্যাহু, লাহুন নি’মাতু, ওয়ালাহুল ফাযলু, ওয়ালাহুস সানা-উল হাসানু, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন” (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শারীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা মাত্রই তাঁর এবং তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাশীল। কোন অন্যায় ও অনিষ্ট হতে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই এবং কোন সৎ কাজ করারও ক্ষমতা নেই একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা’বূদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করি, যাবতীয় নি’আমত ও অনুগ্রহ একমাত্র তাঁরই পক্ষ থেকে এবং উত্তম প্রশংসাও তাঁর। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা’বুদ নেই। আমরা তাঁর দেয়া জীবন বিধান একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফিরদের নিকট তা অপ্রীতিকর। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৫৯৪, يَقوْلُ بِصَوْيَه لْأَ عْلى শব্দটি মুসনাদে শাফি‘ঈর। কিন্তু সহীহ মুসলিমের শব্দ হলো يهلل بهن।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৬৩-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সালাতের সালাম ফিরানোর পর উচ্চকণ্ঠে একটি যিকির পড়তেন। এতে আল্লাহর একত্ব, তাঁর রাজত্ব, প্রশংসা, ক্ষমতা, নিয়ামত ও ফজল স্বীকার করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, শক্তি ও সামর্থ্য আল্লাহ ছাড়া কারও হাতে নেই। এই সালাতের পরের যিকির মুমিনকে মনে করিয়ে দেয় যে ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য। মানুষ আল্লাহর দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে মানবে, যদিও তা অনেকের কাছে অপছন্দের হতে পারে। তাই এই দোয়া শুধু মুখের যিকির নয়; এটি তাওহীদ, কৃতজ্ঞতা এবং একনিষ্ঠতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের পর তাওহীদ ও আল্লাহর প্রশংসা করা সুন্নাহ।
- শক্তি ও সামর্থ্য আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পূর্ণ হয় না।
- ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য হওয়া উচিত।
- নিয়ামত ও অনুগ্রহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে—এ কথা মনে রাখা দরকার।
