৬/২৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৯৯ - দীর্ঘ তাহাজ্জুদ ও কিরাআত
রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব
দীর্ঘ তাহাজ্জুদে ধীর কিরাআত ও জিকির
সহীহ মুসলিম : ১৬৯৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৬৯৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ. ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا. ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ. قَالَ وَفِي حَدِيثِ جَرِيرٍ مِنَ الزِّيَادَةِ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ" .
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক রাতে আমি নবী (ﷺ)–এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল বাক্বারাহ্ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ আয়াত পড়ে রুকু করবেন। কিন্তু এর পরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরা আল বাক্বারাহ্) দ্বারা পুরা দু’ রাকাত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকু করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরা নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরা আ-লি ‘ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন প্রার্থনা করছিলেন।অতঃপর তিনি রুকু করলেন। রুকুতে তিনি বলতে থাকলেন, “সুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীম” (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর রুকু ক্বিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তাঁর প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সাজদাহ্ করলেন। সিজদাতে তিনি বললেন, “সুবহা-না রাব্বিয়াল আ’লা” (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর এ সিজদায়ও প্রায় ক্বিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো।হাদীসটির বর্ণনা কারী বলেন যে, জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক আছেঃ তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু থেকে উঠে] বললেন, “সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- লাকাল হাম্দ” (আল্লাহ শুনেন যে ব্যক্তি তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সব প্রশংসা)।
ই.ফা. ১৬৮৪,ই.সে. ১৬৯১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইফা রাঃ নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর সাথে এক রাতের তাহাজ্জুদের সালাতের অভিজ্ঞতা বলেছেন। তিনি দেখেন, নবীজি صلى الله عليه وسلم সূরা বাকারা শুরু করেন এবং দীর্ঘ সময় পড়তে থাকেন। এরপর সূরা নিসা এবং সূরা আলে ইমরানও পড়েন। তাঁর কিরাআত ছিল ধীর ও থেমে থেমে। তাসবিহের আয়াত এলে তিনি তাসবিহ পড়তেন, চাওয়ার আয়াত এলে চাইতেন, আর আশ্রয় চাওয়ার আয়াত এলে আশ্রয় চাইতেন। রুকুতে সুবহান রাব্বিয়াল আজীম বলতেন এবং রুকু কিয়ামের মতো দীর্ঘ ছিল। সিজদায় সুবহান রাব্বিয়াল আ’লা বলতেন এবং সিজদাও দীর্ঘ ছিল। এই হাদিস দীর্ঘ রাতের সালাত, কুরআনের সাথে মনোযোগী সম্পর্ক এবং রুকু-সিজদার জিকিরের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি صلى الله عليه وسلم তাহাজ্জুদে ধীরে ধীরে কিরাআত করতেন।
- কুরআনের আয়াতের অর্থ অনুযায়ী তাসবিহ, দোয়া ও আশ্রয় চাইতেন।
- রুকু ও সিজদায় নির্দিষ্ট তাসবিহের বর্ণনা এসেছে।
- রাতের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার উদাহরণ দেখা যায়।
