৮/১৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৯০ - নবীজির খুতবা ও বিদআতের সতর্কতা
জুমু‘আর সলাত এবং খুত্বাহ্ হালকা করা প্রসঙ্গে
নবীজির খুতবায় কুরআন, সুন্নাহ ও সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ১৮৯০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৮৯০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَعَلاَ صَوْتُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُولُ " صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ " . وَيَقُولُ " بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ " . وَيَقْرُنُ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى وَيَقُولُ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ " . ثُمَّ يَقُولُ " أَنَا أَوْلَى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلأَهْلِهِ وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَإِلَىَّ وَعَلَىَّ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খুত্বাহ্ (ভাষণ) দিতেন তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, কণ্ঠস্বর জোরালো হত এবং তাঁর রাগ বেড়ে যেত, এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রুবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন আর বলছেন: তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে, তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। তিনি (ﷺ) আরো বলতেন: আমি ও কিয়ামত এ দু’টির ন্যায় (স্বল্প ব্যবধান) প্রেরিত হয়েছি, তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন।তিনি (ﷺ) আরো বলতেন: অতঃপর উত্তম বাণী হল– আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ হল মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল (ধর্মের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবন (বিদ‘আত)। প্রতিটি বিদ‘আত ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলতেনঃ আমি প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে অধিক উত্তম (কল্যাণকামী)। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য। আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার।
ই.ফা. ১৮৭৫, ই.সে. ১৮৮৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর খুতবার শক্তিশালী ধরন বর্ণিত হয়েছে। তিনি খুতবা দিলে চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর জোরালো হতো এবং কথা বলার ভঙ্গিতে গভীর সতর্কতা প্রকাশ পেত। তিনি মানুষকে যেন আসন্ন বিপদের খবর দিচ্ছেন—এমনভাবে সতর্ক করতেন। এরপর তিনি বলতেন, উত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ হলো মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর পথ। তিনি দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবনকে নিকৃষ্ট বিষয় বলেছেন এবং প্রতিটি বিদআতকে ভ্রষ্টতা বলেছেন। হাদিসে আরও এসেছে, মুমিনদের প্রতি নবীজির গভীর কল্যাণকামিতা ছিল। কেউ সম্পদ রেখে গেলে তা পরিবারের জন্য, আর ঋণ বা অসহায় সন্তান রেখে গেলে তার দায়িত্ব নবীজির ওপর।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবায় মানুষকে আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ডাকতে হবে।
- দ্বীনের নামে নতুন উদ্ভাবন থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- নবীজি মুমিনদের প্রতি গভীর কল্যাণকামী ছিলেন।
- খুতবা শুধু বক্তব্য নয়, মানুষের অন্তর জাগানোর মাধ্যম।
