১৩/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৯৪ - দান, ধনী ও তাওহীদের সুসংবাদ
সদাক্বাহ্ প্রদানে উৎসাহ প্রদান
দান, সম্পদ ও তাওহীদের বড় শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২১৯৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২১৯৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَابْنُ نُمَيْرٍ وَأَبُو كُرَيْبٍ كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي، ذَرٍّ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَرَّةِ الْمَدِينَةِ عِشَاءً وَنَحْنُ نَنْظُرُ إِلَى أُحُدٍ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا أُحِبُّ أَنَّ أُحُدًا ذَاكَ عِنْدِي ذَهَبٌ أَمْسَى ثَالِثَةً عِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلاَّ دِينَارًا أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ إِلاَّ أَنْ أَقُولَ بِهِ فِي عِبَادِ اللَّهِ هَكَذَا - حَثَا بَيْنَ يَدَيْهِ - وَهَكَذَا - عَنْ يَمِينِهِ - وَهَكَذَا - عَنْ شِمَالِهِ " . قَالَ ثُمَّ مَشَيْنَا فَقَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنَّ الأَكْثَرِينَ هُمُ الأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . مِثْلَ مَا صَنَعَ فِي الْمَرَّةِ الأُولَى قَالَ ثُمَّ مَشَيْنَا قَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ كَمَا أَنْتَ حَتَّى آتِيَكَ " . قَالَ فَانْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى عَنِّي - قَالَ - سَمِعْتُ لَغَطًا وَسَمِعْتُ صَوْتًا - قَالَ - فَقُلْتُ لَعَلَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُرِضَ لَهُ - قَالَ - فَهَمَمْتُ أَنْ أَتَّبِعَهُ قَالَ ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَهُ " لاَ تَبْرَحْ حَتَّى آتِيَكَ " . قَالَ فَانْتَظَرْتُهُ فَلَمَّا جَاءَ ذَكَرْتُ لَهُ الَّذِي سَمِعْتُ - قَالَ - فَقَالَ " ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَانِي فَقَالَ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِكَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قَالَ قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ " .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা দুপুরের পর আমি নবী (ﷺ) এর সাথে মাদীনার কঙ্করময় মাঠ দিয়ে চলছিলাম এবং আমরা উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাজির আছি। তিনি বললেনঃ “যদি এ উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত হয় তাহলে তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঋণ পরিশোধ করার পরিমাণ অর্থ ছাড়া অতিরিক্ত একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাক তা আমি পছন্দ করি না। তা আমার হস্তগত হলে আমি আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে বণ্টন করে দিব। তিনি সামনের দিকে, ডানে এবং বামে হাতের ইঙ্গিতে এক এক ভরা মুঠ দেখালেন।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা আবার অগ্রসর হলাম। তিনি আবার বললেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাজির আছি। তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন অঢেল সম্পদের মালিকেরা কম সওয়াব লাভ করবে। তবে যারা সৎপাত্রে যথোচিতভাবে এভাবে দান করবে তাদের সওয়াব কোন অংশেই কম হবে না। তিনি মুষ্টি ভরে পূর্বের ন্যায় ইঙ্গিত করে দেখালেন।বর্ণনাকারী বলেন, আমরা চলতে থাকলাম। কিছু দূর অগ্রসর হলে তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি এখানে অপেক্ষা কর এবং আমার ফিরে না আসা পর্যন্ত কোথাও যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন এবং আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেলেন। তারপর আমি কিছু গোলমাল ও শব্দ শুনতে পেয়ে মনে করলাম, বোধ হয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। আমি তাঁকে খোঁজার জন্য মনস্থ করলাম। কিন্তু সাথে সাথে এ স্থান ত্যাগ না করার জন্য তাঁর নির্দেশ আমার মনে পড়ে গেল। তাই আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।অতঃপর তিনি ফিরে আসলে আমি যা কিছু শুনেছিলাম তা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন, তুমি যার শব্দ শুনেছ তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ)। তিনি আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে বলেছেন, “আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন প্রকার শিরক না করা অবস্থায় মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, যদি সে যিনা করে এবং চুরি করে (তবুও কি) তিনি বললেন, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে তবুও।
ই.ফা. ২১৭৩, ই.সে. ২১৭৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ)-এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি দীর্ঘ ঘটনা এসেছে। উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে নবীজি বলেন, যদি তা সোনা হয়ে যায়, তবুও ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ ছাড়া তা নিজের কাছে রাখতে তিনি পছন্দ করেন না; বরং আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে ডানে, বামে ও সামনে খরচ করে দিতে চান। এরপর তিনি বলেন, কেয়ামতের দিন অঢেল সম্পদের মালিকেরা কম সওয়াবের অবস্থায় থাকবে, তবে যারা সঠিকভাবে দান করে তারা ব্যতিক্রম। পরে আবূ যার (রাঃ) নবীজির নির্দেশ মেনে অপেক্ষা করেন। ফিরে এসে নবীজি জানান, জিবরীল (আঃ) সুসংবাদ দিয়েছেন—যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) চুরি ও যিনার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তবুও। হাদিসটি দান, নির্দেশ মানা এবং তাওহীদের গুরুত্ব একসঙ্গে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিরিক্ত সম্পদ কল্যাণের পথে ব্যয় করা বড় শিক্ষা।
- ধনীদের জন্য সম্পদের সঠিক ব্যবহার খুব জরুরি।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মেনে চলা সাহাবিদের আদব ছিল।
- শিরক থেকে মুক্ত অবস্থায় মৃত্যু জান্নাতের বড় সুসংবাদ।
