১/৫৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২২৬ - শির্কই চরম যুলমের ব্যাখ্যা
ঈমানে সততা ও নিষ্ঠা
শির্কই চরম যুলম: ঈমান ও নিরাপত্তার হাদিস
সহীহ মুসলিম : ২২৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২২৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ { الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} شَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَقَالُوا أَيُّنَا لاَ يَظْلِمُ نَفْسَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَيْسَ هُوَ كَمَا تَظُنُّونَ إِنَّمَا هُوَ كَمَا قَالَ لُقْمَانُ لاِبْنِهِ { يَا بُنَىَّ لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ{
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আল্লাহ তা’আলার বাণী) : “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি নিরাপত্তা তাদের জন্য, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত”-(সূরা আল আন’আম ৬ : ৮২)।এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে তা সাহাবীদের কাছে খুবই কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর আদৌ অত্যাচার করেনি? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তোমরা যা মনে করেছ বিষয়টি তা নয়, বরং এর মর্মার্থ হচ্ছে লুক্মান তাঁর পুত্রকে সম্বোধন করে যা বলেছিলেন।তিনি বলেছিলেন : “হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শরীক করো না, নিশ্চয়ই শির্ক চরম যুল্ম”-(সূরা লুক্মান ৩১ : ১৩)।
ই.ফা. ২২৭; ই.সে. ২৩৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আল আন‘আমের আয়াত নাজিল হওয়ার পর সাহাবিদের একটি চিন্তার কথা এসেছে। আয়াতে বলা হয়েছিল, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদের জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। সাহাবিদের কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হলো। তারা ভাবলেন, নিজের উপর কোনো না কোনোভাবে ভুল বা যুলম করেনি—এমন কে আছে? তখন রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বুঝিয়ে দিলেন, এখানে যুলম বলতে সাধারণ সব ভুল বোঝানো হয়নি; বরং লুকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে যে কথা বলেছিলেন—শির্ক করো না, নিশ্চয়ই শির্ক চরম যুলম—এই অর্থ বোঝানো হয়েছে। তাই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ঈমানকে শির্ক থেকে পবিত্র রাখা নিরাপত্তা ও হিদায়াতের বড় কারণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শির্ককে হাদিসে চরম যুলম হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- কুরআনের আয়াত বুঝতে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
- সাহাবিরা আয়াত শুনে নিজেদের ঈমান নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন।
- ঈমানকে শির্ক থেকে পবিত্র রাখা মুমিনের মূল দায়িত্ব।
