১৩/৫১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৭২ - আলে মুহাম্মাদের জন্য সাদাকা নয়
নবী (ﷺ)-এর বংশধরকে সদাক্বাহ্ উসূলকারী নিযুক্ত না করা প্রসঙ্গে
আলে মুহাম্মাদের জন্য সাদাকা কেন নয়
সহীহ মুসলিম : ২৩৭২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৭২
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ الْهَاشِمِيِّ، أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ بْنَ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ، بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ رَبِيعَةَ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَالْعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالاَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ وَلِلْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ ائْتِيَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ مَالِكٍ وَقَالَ فِيهِ فَأَلْقَى عَلِيٌّ رِدَاءَهُ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَنَا أَبُو حَسَنٍ الْقَرْمُ وَاللَّهِ لاَ أَرِيمُ مَكَانِي حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْكُمَا ابْنَاكُمَا بِحَوْرِ مَا بَعَثْتُمَا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ ثُمَّ قَالَ لَنَا " إِنَّ هَذِهِ الصَّدَقَاتِ إِنَّمَا هِيَ أَوْسَاخُ النَّاسِ وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلاَ لآلِ مُحَمَّدٍ " . وَقَالَ أَيْضًا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «ادْعُوَا لِي مَحْمِيَةَ بْنَ جَزْءٍ». وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ اسْتَعْمَلَهُ عَلَى الأَخْمَاسِ.
‘আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনু রবী’আহ্ ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাবী’আহ্ ইবনু হারিস ও ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিব উভয়ে নিজ নিজ পুত্র ‘আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনু রাবী’আহ্ ও ফায্ল ইবনু ‘আব্বাসকে বললেন, তোমরা দু’জন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাও। হাদীসের বাকী অংশ মালিক কর্তৃক বর্ণিত উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে- তারপর ‘আলী (রাঃ) নিজের চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়লেনে এবং বললেন, “আমি হাসানের পিতা এবং সাইয়্যিদ। আল্লাহর শপথ! তোমরা যে কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তোমার ছেলেদের পাঠিয়েছো তারা তার জবাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।এ হাদীসে আরো আছে, তিনি আমাদের উদ্দেশে বললেনঃ “যাকাতের এ অর্থ হলো মানুষের (সম্পদের) আবর্জনা। তাই এ অর্থ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর বংশধরদের জন্য হালাল নয়।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাহ্মিয়্যাহ্ ইবনু জায-কে আমার কাছে ডেকে আনো। তিনি বানী আসাদ গোত্রের লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে খুমুসের (গনীমাতের মালের) কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন।
ই. ফা. ২৩৫০, ই. সে. ২৩৫০
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের বর্ণনার অনুরূপ, তবে এতে কয়েকটি অতিরিক্ত কথা এসেছে। আলী (রাঃ) চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকেন এবং বলেন, ছেলেরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছ থেকে জবাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত তিনি নড়বেন না। পরে রাসূল صلى الله عليه وسلم স্পষ্ট করে বলেন, এই সাদাকাগুলো মানুষের সম্পদের আবর্জনা; এগুলো মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও আলে মুহাম্মাদের জন্য হালাল নয়। তারপর তিনি মাহমিয়্যাহ ইবন জায-কে ডাকতে বলেন, যিনি খুমুসের দায়িত্বে ছিলেন। এই হাদিসে যাকাত ও সাদাকার বিধান পরিষ্কারভাবে এসেছে। একই সঙ্গে বোঝা যায়, নিষিদ্ধ উৎস বাদ দিয়ে বৈধ উৎস থেকে প্রয়োজন মেটানোর পথ রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ও তাঁর বংশধরদের জন্য সাদাকা হালাল নয়।
- যাকাত ও সাদাকার সম্পদ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
- নিষিদ্ধ উৎস এড়িয়ে বৈধ উৎস খোঁজা ইসলামের শিক্ষা।
- সঠিক জবাব পেতে সরাসরি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছে যাওয়ার ঘটনা এখানে আছে।
