১/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪ - ঈমান ও নাবীয পাত্রের নিষেধ
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর দ্বীনের অনুশাসনের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দেয়া এবং তার প্রতি মানুষকে আহবান করা, দ্বীন সম্বন্ধে (জানার জন্য) প্রশ্ন করা ও তা সংরক্ষণ করা আর যার কাছে দ্বীন পৌঁছায়নি তার নিকট দ্বীনের দা‘ওয়াত পেশ করা
আবদুল কায়সের শিক্ষা: ঈমান, ফরজ আমল ও নাবীয পাত্রের নিষেধ
সহীহ মুসলিম : ২৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَلْفَاظُهُمْ، مُتَقَارِبَةٌ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، - عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ كُنْتُ أُتَرْجِمُ بَيْنَ يَدَىِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَبَيْنَ النَّاسِ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ تَسْأَلُهُ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ، فَقَالَ إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنِ الْوَفْدُ أَوْ مَنِ الْقَوْمُ». قَالُوا رَبِيعَةُ . قَالَ «مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزَايَا وَلاَ النَّدَامَى " . قَالَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْتِيكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ وَإِنَّ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَىَّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ وَإِنَّا لاَ نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلاَّ فِي شَهْرِ الْحَرَامِ فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فَصْلٍ نُخْبِرْ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا نَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ .قَالَ فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ . قَالَ أَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ . وَقَالَ «هَلْ تَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ «شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمُسًا مِنَ الْمَغْنَمِ». وَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ . قَالَ شُعْبَةُ وَرُبَّمَا قَالَ النَّقِيرِ . قَالَ شُعْبَةُ وَرُبَّمَا قَالَ الْمُقَيَّرِ . وَقَالَ «احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوا بِهِ مِنْ وَرَائِكُمْ».وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي رِوَايَتِهِ «مَنْ وَرَاءَكُمْ» وَلَيْسَ فِي رِوَايَتِهِ الْمُقَيَّرِ .
আবূ জামরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সম্মুখে তাঁর ও ভিনদেশী লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদা জনৈক মহিলা এসে তাঁকে মাটির কলসীর মধ্যে ‘নাবীয [১] প্রস্তুত করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেন, ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে আসলো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ কাদের এ প্রতিনিধি দল? অথবা তিনি বললেন, কোন গোত্রের লোক? তারা বলল, রাবী‘আহ্ গোত্রের। তিনি বললেন, ঐ গোত্রের অথবা বললেন, প্রতিনিধি দলের আগমন শুভ হোক। তাদের লজ্জিত হওয়ার ও অপমানিত হওয়ারও কোন কারণ নেই (তারা ইতিপূর্বে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে)।ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আপনার কাছে এসেছি। আমাদের ও আপনার মাঝখানে কাফির মুযারা গোত্র বাস করে। তাই আমরা মাহে-হারাম (সম্মানিত মাস) ছাড়া অন্য সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। আপনি আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে কোন কাজের কথা বলে দিন যেন আমরা তা আমাদের পশ্চাতের অন্যান্য লোকদের জানিয়ে দিতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমল করে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন তাদের চারটি বিষয় পালনের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন। এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তোমরা জান এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তারা আরয করলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এ বিষয়ে ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল আর তোমরা সালাত কায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমাযানের সিয়াম পালন করবে এবং গনীমতলব্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ দান করবে।তিনি তাদের চারটি বিষয়ে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। তা হচ্ছে দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত। চতুর্থটি সম্বন্ধে শু‘বাহ্ (রহঃ) বলেন, এরপর রাবী কখনো নাকীর কখনো বা মুকাইয়্যার শব্দ উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এসব বিধান হিফাযাত করবে এবং যারা আসেনি তাদের তা জানিয়ে দিবে। আবূ বকর (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে مَنْ وَرَاءَكُمْ (যারা আসেনি) কথাটি রয়েছে কিন্তু الْمُقَيَّرِ শব্দটি নেই।
[১] নাবীযঃ কিসমিস খেজুর ইত্যাদি ভিজিয়ে তৈরি পানীয়।ই.ফা. ২৪; ই.সে. ২৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে দোভাষীর কাজের কথা এসেছে। এক মহিলা মাটির কলসিতে নাবীয তৈরির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আবদুল কায়স প্রতিনিধি দলের ঘটনার কথা বলেন। তারা দূর থেকে এসে এমন পরিষ্কার নির্দেশনা চেয়েছিল, যাতে তারা নিজেদের লোকদের জানাতে পারে এবং আমল করতে পারে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমানের ব্যাখ্যা দেন: শাহাদাহ, সালাত কায়েম, যাকাত দেওয়া, রমজানের সিয়াম পালন এবং গনীমতের খুমুস আদায়। এরপর তিনি দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত এবং নাকীর বা মুকাইয়্যার জাতীয় পাত্র থেকে বিরত থাকতে বলেন। শেষে নির্দেশ দেওয়া হয়, এসব বিধান সংরক্ষণ করো এবং যারা আসেনি তাদের জানিয়ে দাও।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক আল্লাহর ঈমানের সাথে আমলও যুক্তভাবে শেখানো হয়েছে।
- শাহাদাহ, সালাত, যাকাত ও সাওম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
- নির্দিষ্ট পাত্রে নাবীয তৈরির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
- শেখা জ্ঞান অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছানো দরকার।
