১/৭০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০ - তিন শ্রেণির দ্বিগুণ সওয়াব
সকল মানুষের জন্য আমাদের নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ) প্রেরিত হয়েছেন এবং অন্যান্য সকল দ্বীন ও ধর্ম তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে রহিত হয়ে গেছে- এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন ওয়াজিব
তিন শ্রেণির মানুষ দ্বিগুণ সওয়াব পাবে
সহীহ মুসলিম : ২৮০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ صَالِحٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ سَأَلَ الشَّعْبِيَّ فَقَالَ يَا أَبَا عَمْرٍو إِنَّ مَنْ قِبَلَنَا مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ يَقُولُونَ فِي الرَّجُلِ إِذَا أَعْتَقَ أَمَتَهُ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا فَهُوَ كَالرَّاكِبِ بَدَنَتَهُ. فَقَالَ الشَّعْبِيُّ حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «ثَلاَثَةٌ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمَنَ بِنَبِيِّهِ وَأَدْرَكَ النَّبِيَّ ﷺ فَآمَنَ بِهِ وَاتَّبَعَهُ وَصَدَّقَهُ فَلَهُ أَجْرَانِ وَعَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى وَحَقَّ سَيِّدِهِ فَلَهُ أَجْرَانِ وَرَجُلٌ كَانَتْ لَهُ أَمَةٌ فَغَذَاهَا فَأَحْسَنَ غِذَاءَهَا ثُمَّ أَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ أَدَبَهَا ثُمَّ أَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ». ثُمَّ قَالَ الشَّعْبِيُّ لِلْخُرَاسَانِيِّ خُذْ هَذَا الْحَدِيثَ بِغَيْرِ شَىْءٍ. فَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يَرْحَلُ فِيمَا دُونَ هَذَا إِلَى الْمَدِينَةِ.
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইমাম শা’বীর নিকট এসে জনৈক খুরাসানী ব্যক্তিকে প্রশ্ন করতে দেখলাম। সে বলল, হে আবূ ‘আমর! আমাদের অঞ্চলে কতিপয় খুরাসানীর মতামত হলো, যে ব্যক্তি নিজের দাসীকে আযাদ করে দিয়ে তাকে বিয়ে করল সে যেন নিজে কুরবানীর উটের উপর সওয়ার হলো (অর্থাৎ তা নিন্দনীয় কাজ মনে করে।) শা’বী উত্তরে বললেন, আমাকে আবূ বুরদাহ (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তিন ধরনের লোককে দ্বিগুণ সওয়াব দান করা হবে। (তারা হলো)(১) যে আহলে কিতাব তার নবীর প্রতি ঈমান এনেছে এবং পরে আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং সত্য বলে মেনে নিয়েছে এবং আমার অনুসরণ করেছে সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।(২) যে দাস আল্লাহ তা’আলার হক আদায় করেছে এবং তার মালিকের হকও আদায় করেছে, সেও দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করবে।(৩) যে ব্যক্তি তার দাসীকে উত্তম খাবার দিয়েছে, উত্তমরূপে আদব-কায়দা শিখিয়েছে, তারপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; সেও দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হবে।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর শা’বী উক্ত খোরাসানীকে বললেন, কোন বিনিময় ছাড়াই তুমি এ হাদীস নিয়ে যাও। অথচ এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হাদীসের জন্যও এক সময় মাদীনাহ্ পর্যন্ত লোকেরা সফর করত।আবূ বাক্র ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও ইবনু আবূ ‘উমার ও ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) … সালিহ্ (রহঃ) থেকে পূর্বোল্লিখিত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ই.ফা. ২৮৪, ২৮৫; ই.সে. ২৯৫, ২৯৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন শ্রেণির মানুষের দ্বিগুণ সওয়াবের কথা এসেছে। প্রথমত, আহলে কিতাবের কেউ তার নবীর প্রতি ঈমান এনেছে, পরে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ঈমান এনে তাঁকে সত্য মেনে অনুসরণ করেছে। দ্বিতীয়ত, যে দাস আল্লাহর হক এবং মালিকের হক আদায় করেছে। তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি তার দাসীকে ভালো খাবার দিয়েছে, ভালো আদব শিখিয়েছে, তারপর তাকে মুক্ত করে বিয়ে করেছে। এই হাদিসে ভুল ধারণার জবাবও আছে—দাসীকে মুক্ত করে বিয়ে করা নিন্দনীয় নয়; বরং হাদিসে এর জন্য সওয়াবের কথা এসেছে। মূল শিক্ষা হলো ঈমান, দায়িত্ব পালন এবং মানুষের প্রতি ভালো আচরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য চিনে ঈমান আনা বড় সওয়াবের কারণ।
- আল্লাহর হক ও মানুষের হক—দুটিই আদায় করা দরকার।
- অধীনস্থ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ ও সম্মান দেওয়া প্রশংসনীয়।
