১৬/৬৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১২৮ - তাওয়াফ, কা’বা ও কেবলার শিক্ষা
হাজ্জ পালনকারী ও অন্যান্যের জন্য কা‘বাহ্ ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং সলাত আদায় করা, এর সকল পাশে দু‘আ করা মুস্তাহাব
বায়তুল্লাহর সব দিক কেবলা: কা’বার ভেতরে দোয়া
সহীহ মুসলিম : ৩১২৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩১২৮
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ بَكْرٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَسَمِعْتَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّمَا أُمِرْتُمْ بِالطَّوَافِ وَلَمْ تُؤْمَرُوا بِدُخُولِهِ .قَالَ لَمْ يَكُنْ يَنْهَى عَنْ دُخُولِهِ وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمَّا دَخَلَ الْبَيْتَ دَعَا فِي نَوَاحِيهِ كُلِّهَا وَلَمْ يُصَلِّ فِيهِ حَتَّى خَرَجَ فَلَمَّا خَرَجَ رَكَعَ فِي قُبُلِ الْبَيْتِ رَكْعَتَيْنِ . وَقَالَ «هَذِهِ الْقِبْلَةُ» . قُلْتُ لَهُ مَا نَوَاحِيهَا أَفِي زَوَايَاهَا قَالَ بَلْ فِي كُلِّ قِبْلَةٍ مِنَ الْبَيْتِ .
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আত্বা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদেরকে কেবল ত্বওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বায়তুল্লাহ্র অভ্যন্তরে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়নি?” ‘আত্বা (রহঃ) বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তো কা’বার অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষেধ করেননি, বরং আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, নবী (ﷺ) বায়তুল্লাহ্র অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এর সকল পাশে দোয়া করেছেন কিন্তু বের হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত আদায় করেননি।তিনি বের হয়ে এসে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দু’রাক’আত সালাত আদায় করেছেন এবং বলেছেন, এ হ’ল ক্বিবলাহ্। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এর পার্শ্ব বলতে কী বুঝায়? তা দিয়ে কি কোণ বুঝানো হয়েছে? তিনি (‘আত্বা) আরও বললেন, এর সমস্ত পার্শ্ব ও কোণই ক্বিবলাহ্। [৩০]
[৩০] “এটাই ক্বিবলাহ্” অর্থাৎ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত এর দিকে মুখ করে সলাত আদায় করা হবে। এটা আর রহিত হবে যেরূপভাবে পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাস ক্বিবলাহ্ ছিল পরে তা রহিত করা হয়। অথবা উদ্দেশ্য এটাও হতে পারে যে, কা’বাহ্ ঘরে ইমাম কোথায় দাঁড়াবে এটা শিখানো। ইমাম যেন এ ঘরের অন্যান্য কোণ বা কিনারায় না দাঁড়ায়। প্রত্যেক দিকেই দাঁড়ায়ে সলাত আদায় বৈধ হলেও এ কা’বাই ক্বিবলাহ্; এর আশেপাশে নির্মিত অন্য কোন মসজিদ নয়। উপর্যুক্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে মুহাদ্দিসগণ বিলাল (রাঃ)-এর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, যে বর্ণনাতে কা’বার অভ্যন্তরে সলাত আদায়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। উসামাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনা গ্রহণ করেননি। কেননা বিলাল (রাঃ)-এর বর্ণনায় একটি অতিরিক্ত বিষয় প্রমাণিত হয়। আর ঐ ধরনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বর্ণনা নেতিবাচক বর্ণনার উপর অগ্রাধিকার পায়। আর এখানে যে সলাতে রুকূ’-সাজদাহ্ বিদ্যমান তাই উদ্দেশ্য। এজন্যই ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, তথায় কয় রাক’আত সলাত আদায় করা হয়েছিল তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গেছি। আর উসামাহ্ (রাঃ) সলাত আদায় করতে না দেখার কারণ হতে পারে যে, তিনি দু’আ যিকিরে মত্ত ছিলেন এবং রাসূল (ﷺ) হতে দূরে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে বিলাল (রাঃ)-এর বিপরীত, কেননা স্বয়ং রাসূল (ﷺ)-এর নিকটে ছিলেন, কা’বার দরজা বন্ধ করায় সেখানে আঁধার নেমেছিল এবং রাসূল (ﷺ)-এর সে সলাত খুব হালকা ছিল। কা’বাহ্ অভ্যন্তরে সলাত আদায় বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। ইমাম শাফি, সাওরী ও জমহুরের মতে এতে ফারয, নাফ্ল, বিত্র সকল সলাতই আদায় জায়িয আর এটাই শক্তিশালী কথা।ই.ফা. ৩১০৩, ই.সে. ৩১০০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাওয়াফ, কা’বার ভেতরে প্রবেশ এবং কেবলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। আতা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) কা’বার ভেতরে প্রবেশ নিষেধ করেননি; বরং তিনি উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم বায়তুল্লাহর ভেতরে প্রবেশ করে এর সব পাশে দোয়া করেছেন, কিন্তু বের হওয়া পর্যন্ত সেখানে সালাত আদায় করেননি। এরপর বাইরে এসে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন এবং বলেন, “এ হল কেবলা।” আতার ব্যাখ্যায় কা’বার সব পাশ ও কোণ কেবলার অন্তর্ভুক্ত। তাই এই হাদিসে কা’বার ভেতরে দোয়া, বাইরে সালাত, এবং বায়তুল্লাহর কেবলা হওয়ার বিষয়টি একসঙ্গে স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফের নির্দেশ আলাদা, কা’বার ভেতরে প্রবেশের বিষয় আলাদা।
- নবী صلى الله عليه وسلم কা’বার ভেতরে সব পাশে দোয়া করেছেন।
- তিনি বাইরে এসে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন।
- হাদিসে বায়তুল্লাহর সব পাশ ও কোণকে কেবলা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
