১৭/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩৬৬ - কুমারীর নীরবতাই তার সম্মতি
পূর্ব বিবাহিতার মৌখিক সম্মতি গ্রহণ এবং কুমারীর নীরবতা সম্মতি হিসেবে বিবেচিত হবে
অভিভাবক দিলেও মেয়ের সম্মতি নিতে হবে
সহীহ মুসলিম : ৩৩৬৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৩৬৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ، يَقُولُ قَالَ ذَكْوَانُ مَوْلَى عَائِشَةَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَارِيَةِ يُنْكِحُهَا أَهْلُهَا أَتُسْتَأْمَرُ أَمْ لاَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ تُسْتَأْمَرُ " . فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لَهُ فَإِنَّهَا تَسْتَحْيِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَذَلِكَ إِذْنُهَا إِذَا هِيَ سَكَتَتْ " .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলামঃ যে মেয়েকে তার অভিভাবক বিবাহ দেয়, তার নিকট থেকেও সম্মতি নিতে হবে কি না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ হাঁ, তার সম্মতি নিতে হবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে পুনর্বার বললাম, সে তো লজ্জায় পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার নীরবতাই তার সম্মতি।
ই.ফা. ৩৩৪০, ই.সে. ৩৩৩৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, যে মেয়েকে তার অভিভাবক বিবাহ দেয়, তার কাছ থেকেও কি সম্মতি নিতে হবে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, হ্যাঁ, তার সম্মতি নিতে হবে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, সে তো লজ্জা পাবে। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, সে নীরব থাকলে সেটিই তার সম্মতি। এই হাদিসে “মেয়ের সম্মতি”, “অভিভাবকের বিবাহ”, “কুমারীর নীরবতা” এবং “বিবাহে অনুমতি” বিষয়গুলো সরাসরি এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, অভিভাবকের ভূমিকা থাকলেও মেয়ের মতামত বাদ দেওয়া যাবে না। কুমারী মেয়ে লজ্জার কারণে কথা না বলতে পারে; তাই নীরবতাকে সম্মতির লক্ষণ বলা হয়েছে। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ী বিষয়টি সম্মতি গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত, জোর করার অনুমতি হিসেবে নয়। তাই বিবাহের আগে মেয়ের মতামত জানার আদব ও দায়িত্ব এখানে স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভিভাবক বিবাহ দিলেও মেয়ের সম্মতি নিতে হবে।
- কুমারীর লজ্জা বিবেচনা করে নীরবতাকে সম্মতি বলা হয়েছে।
- বিবাহে মেয়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর শিক্ষার অংশ।
- নীরবতার কথা সম্মতি গ্রহণের আলোচনায় এসেছে, জোর করার অনুমতি হিসেবে নয়।
