১৭/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪১৯ - রিফাআর স্ত্রীর ঘটনা
ত্বলাকপ্রাপ্তা স্ত্রী হালাল হবে না ত্বলাকদাতার জন্য, যতক্ষণ না সে তাকে ছাড়া অন্য স্বামীকে বিবাহ করে এবং সে তার সাথে যৌন সঙ্গম করে এবং অতঃপর তাকে ত্বলাক্ব দেয় এবং তার ‘ইদ্দাত শেষ হয়
রিফাআর স্ত্রীর ঘটনা ও তালাকের শর্ত
সহীহ মুসলিম : ৩৪১৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৪১৯
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لِحَرْمَلَةَ - قَالَ أَبُو الطَّاهِرِ حَدَّثَنَا وَقَالَ، حَرْمَلَةُ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيَّ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَبَتَّ طَلاَقَهَا فَتَزَوَّجَتْ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ فَجَاءَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَهَا آخِرَ ثَلاَثِ تَطْلِيقَاتٍ فَتَزَوَّجْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مَعَهُ إِلاَّ مِثْلُ الْهُدْبَةِ وَأَخَذَتْ بِهُدْبَةٍ مِنْ جِلْبَابِهَا . قَالَ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ضَاحِكًا فَقَالَ " لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ». وَأَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ جَالِسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَخَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ جَالِسٌ بِبَابِ الْحُجْرَةِ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ قَالَ فَطَفِقَ خَالِدٌ يُنَادِي أَبَا بَكْرٍ أَلاَ تَزْجُرُ هَذِهِ عَمَّا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রিফা’আহ্ আল কুয়াযী (রাঃ) তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সে তাকে পুরোপুরি তালাক দিয়ে দেয়। অতঃপর সে স্ত্রী লোকটি ‘আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে বিবাহ করে। এরপর সে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে ছিল রিফা’আর অধীনে। সে তাকে পুরোপুরি তিন তালাক দেয়। অতঃপর সে ‘আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে বিবাহ করে। আল্লাহ্র কসম, তার সাথে তো রয়েছে কাপড়ের ঝালরের মতো। এ বলে, মহিলা তার ওড়নার আঁচল ধরে দেখাল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি সম্ভবত রিফা’আর নিকট ফিরে যেতে চাও? না তা হয় না, যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ করে এবং তুমি তার স্বাদ কর। আবূ বাক্র (রাঃ) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলেন। আর খালিদ ইবনু সা’ঈদ ইবনু ‘আস (রাঃ) ছিলেন হুজরার দরজায় বসা। তাকে (ঘরে প্রবেশ করার) অনুমতি দেয়া হয়নি। রাবী বলেন, তখন খালিদ (রাঃ) আবূ বাক্র (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, আপনি কেন মহিলাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তার এ সব কথা প্রকাশ করা থেকে বারণ করলেন না।
ই.ফা. ৩৩৯২, ই.সে. ৩৩৯১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রিফাআহ আল কুরাযীর স্ত্রীর ঘটনা জানিয়েছেন। রিফাআহ তাকে পুরোপুরি তালাক দেন। এরপর তিনি আবদুর রহমান ইবন যুবাইরকে বিয়ে করেন। পরে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলেন, রিফাআ তাকে তিন তালাক দিয়েছেন এবং দ্বিতীয় স্বামীর ব্যাপারে নিজের অভিযোগ প্রকাশ করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাসলেন এবং বললেন, তুমি সম্ভবত রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও; না, তা হবে না, যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর। এখানে দাম্পত্য সম্পর্কের বাস্তব পূর্ণতার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি তালাক, দ্বিতীয় বিয়ে এবং আগের স্বামীর কাছে ফেরার শর্ত নিয়ে স্পষ্ট শিক্ষা দেয়। একই সাথে দেখা যায়, সাহাবিরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে কথা বলার আদব নিয়েও সচেতন ছিলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিন তালাকের পর আগের স্বামীর কাছে ফেরা নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়া হয় না।
- দাম্পত্য ও তালাকের বিষয় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
- শরয়ি বিষয়ে আবেগ নয়, নববী নির্দেশ মানতে হয়।
