১/৮৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪৯ - সর্বশেষ জান্নাতী ও আল্লাহর দান
জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তি
সর্বশেষ জান্নাতীর জন্য আল্লাহর বিশাল দান
সহীহ মুসলিম : ৩৪৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৪৯
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنِّي لأَعْلَمُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْهَا وَآخِرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولاً الْجَنَّةَ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ حَبْوًا فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلأَى . فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ - قَالَ - فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلأَى فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَإِنَّ لَكَ مِثْلَ الدُّنْيَا وَعَشَرَةَ أَمْثَالِهَا أَوْ إِنَّ لَكَ عَشَرَةَ أَمْثَالِ الدُّنْيَا - قَالَ - فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي - أَوْ أَتَضْحَكُ بِي - وَأَنْتَ الْمَلِكُ»قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ . قَالَ فَكَانَ يُقَالُ ذَاكَ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ও জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী লোকটিকে আমি অবশ্যই জানি। সে হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন : যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। সে সেখানে আসবে। আর তার ধারণা হবে যে, তাতো পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে কোন স্থান নেই তাই সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু! আমিতো তা পরিপূর্ণ পেয়েছি।আল্লাহ তা‘আলা আবার তাকে বলবেন : যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ এ ব্যক্তি সেখানে আসলে তার ধারণা হবে যে, তাতো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু! আমিতো তা পূর্ণ পেয়েছি। আল্লাহ তাকে পুনরায় বলবেন : যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাকে দুনিয়ার মতো এবং তার দশগুণ দেয়া হলো। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাকে পৃথিবীর দশগুণ দেয়া হলো।অতঃপর সে বলবে, আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন? অথবা সে বলবে, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেনঃ এ হবে সবচেয়ে নিম্নশ্রেণীর জান্নাতী।
ই.ফা. ৩৫৭; ই.সে. ৩৬৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সর্বশেষ জান্নাতী এবং আল্লাহর দয়া। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, তিনি এমন ব্যক্তিকে জানেন যে জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ বের হবে এবং জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশ করবে। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে। তাকে জান্নাতে যেতে বলা হবে, কিন্তু সে ভাববে জান্নাত পূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে নিজের ধারণার কথা বলবে। আল্লাহ তাকে আবার যেতে বলবেন। শেষে তাকে দুনিয়ার মতো এবং তার দশগুণ, অথবা দুনিয়ার দশগুণ দান করা হবে। লোকটি অবাক হয়ে বলবে, আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন, অথচ আপনি রাজাধিরাজ? এখানে মানুষের সীমিত ভাবনা ও আল্লাহর অবারিত দানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। হাদিসটি আশা জাগায়, তবে গুনাহের ভয়ও মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের ধারণা সীমিত, কিন্তু আল্লাহর দান মানুষের ভাবনার বাইরে হতে পারে।
- জাহান্নাম থেকে মুক্তির আগে কঠিন অবস্থা থাকবে, তাই গুনাহ থেকে বাঁচা জরুরি।
- জান্নাতের নেয়ামত আল্লাহর অনুগ্রহে দেওয়া হয়।
