২০/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৩৫ - অপবাদের বিচার ও বিচ্ছেদ
লি‘আন সম্পর্কে
লি‘আন: অপবাদ, প্রশ্ন ও বিচ্ছেদের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৬৩৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৩৫
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ، السَّاعِدِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ لَهُ أَرَأَيْتَ يَا عَاصِمُ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَسَلْ لِي عَنْ ذَلِكَ يَا عَاصِمُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ.فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا. قَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا.فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَسَطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «قَدْ نَزَلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا».قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا فَرَغَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا . فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ. قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ.
সাহল বিন সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উওয়াইমির আল-‘আজলানী (রাঃ) ‘আসিম ইবনু ‘আদী আনসারী (রাঃ)-এর কাছে এসে তাকে বললেন, হে ‘আসিম! যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষকে (ব্যভিচারে লিপ্ত)পায়; তবে তোমার অভিমত কী? সে কি তাকে হত্যা করবে? আর তখন তো তোমরা তাকে (কিসাস হিসেবে) হত্যা করবে। যদি তা না হয় তবে সে কী করবে? হে ‘আসিম! তুমি আমার জন্য এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস কর।তখন ‘আসিম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ রকম প্রশ্ন করা অপছন্দ করলেন এবং এটি দূষণীয় মনে করলেন [২]। ‘আসিম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এর নিকট যা শুনলেন এতে বড়ই দুঃখিত হলেন। যখন ‘আসিম ফিরে এলেন, তখন ‘উওয়াইমির তার কাছে এসে বললেনঃ হে ‘আসিম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কী বলেছেন?‘আসিম ‘উওয়াইমিরকে বললেনঃ তুমি আমার কাছে ভাল কাজ নিয়ে আসনি। তুমি যে বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে বলেছ তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুবই অপছন্দ করেছেন। ‘উওয়াইমির (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস না করে ক্ষান্ত হব না।তখন ‘উওয়াইমির গেলেন এবং লোক সমাবেশে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে (ব্যভিচারে লিপ্ত) দেখতে পায় তাহলে সে–কি তাকে হত্যা করে ফেলবে? এরপর তো (কিসাস হিসেবে) আপনারা তাকে হত্যা করে ফেলবেন। অথবা সে কী করবে?তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম নাযিল হয়েছে। তুমি যাও, তোমার স্ত্রীকে নিয়ে এসো। সাহল বললেনঃ এরপর তারা উভয়ে (স্বামী-স্ত্রী) লি’আন করলো। আর আমিও তখন লোকজনদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট হাযির ছিলাম। যখন লি’আন সমাধা করলেন তখন ‘উওয়াইমির বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আমি তাকে আমার স্ত্রী হিসেবে রেখে দেই তাহলে তো আমি তার উপর মিথ্যারোপকারী হয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দেয়ার আগেই তিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন।ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তখন থেকে লি’আনকারীদের জন্য এটাই নিয়ম-বিধান হিসেবে পরিণত হল।
[১] লি’আন বিষয়ক প্রশ্নটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অপছন্দনীয় ও দূষণীয় মনে করেছেন এ কারণে যে, এমনতর অশ্লীল ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটেনি- (সহীহ মুসলিম, শারহে নাবাবী ১/৪৮৮ পৃঃ)। এটি মুসলিমদের জন্য বদনাম এবং কাফিরদের জন্য খুশীর সংবাদ।ই.ফা.৩৬০১, ৪র্থ খন্ড; ই.সে.৩৬০১, ৫ম খন্ড
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উওয়াইমির আল-আজলানী (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি জানতে চাইলেন, কেউ যদি নিজের স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষকে দেখে, তবে সে কী করবে—হত্যা করবে, নাকি অন্য পথ আছে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন প্রশ্ন পছন্দ করেননি, কারণ এটি খুব গুরুতর বিষয়। পরে উওয়াইমির নিজে এসে প্রশ্ন করলে নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তার ও তার স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম নাযিল হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী উভয়ে লি‘আন করল। লি‘আন শেষ হলে উওয়াইমির বললেন, স্ত্রীকে রেখে দিলে তিনি মিথ্যাবাদী হয়ে যাবেন, তাই নবী صلى الله عليه وسلم নির্দেশ দেওয়ার আগে তাকে তিন তালাক দিলেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, বড় অভিযোগে আবেগে কাজ করা নয়; আল্লাহর বিধান ও নবীর নির্দেশের কাছে ফিরতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর দাম্পত্য অভিযোগে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া পথ নয়।
- লি‘আনের বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে বিচারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
- স্বামী-স্ত্রীর অভিযোগে সত্য-মিথ্যার হিসাব আল্লাহর কাছে থাকে।
- লি‘আনের পর বিচ্ছেদের নিয়ম এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।
